মফিজুল ইসলাম, ঝিনাইদহ
টানা বর্ষণে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গ্রামীণ কাঁচা ও আধা-পাকা রাস্তাগুলোর বেহাল দশা চরম আকার ধারণ করেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদায় পরিণত হয়ে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে যায়। আর এতে করে দুর্ভোগে পড়ছে হাজারো সাধারণ মানুষ।
উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তায় এখন হাঁটাও কষ্টসাধ্য। পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের রাস্তা যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ৮নং ধলহরাচন্দ্র, ৯নং বগুড়া, ১১নং আবাইপুর, ৩নং দিগনগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের রাস্তাগুলো বৃষ্টির পানিতে ধসে পড়ছে। এসব সড়কের পাশে মাটি না থাকায়, এবং খাল-বিল, পুকুর ঘেঁষে রাস্তা হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো ভেঙে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া এসব রাস্তায় ঠিকাদারি কাজ হলেও অনেক স্থানে হয়েছে অনিয়ম। ফলে কাঁচা ও পাকা রাস্তাগুলোর কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। ভারী যানবাহনের কারণে ক্ষতি আরও বেড়েছে। এসব গর্তে পানি জমে রাস্তাগুলো চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের আওধা গ্রামের পল্লি চিকিৎসক পলাশ কুমার বলেন, “রাস্তার যে অবস্থা, তাতে হেঁটে যেতেও কষ্ট হয়। হাট-বাজারে মালামাল নিতে গেলে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি গুনতে হয়।”
একই ইউনিয়নের ধলহরাচন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বরিয়া বালিকা বিদ্যালয় পর্যন্ত চার কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় চরম ভোগান্তির কথা জানিয়ে শিক্ষার্থী দীপ্তি, মানিক মিয়া ও আ. কালাম বলেন, “বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই, রাস্তায় বড় বড় গর্ত, কাদা মাখা রাস্তায় হাঁটাও যায় না। ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায় বর্ষা মৌসুমে।”
স্থানীয় চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে রাস্তা সংস্কারের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বুলবুলি বেগম বলেন, “আমার ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি কাঁচা রাস্তা রয়েছে। যেগুলোর অধিকাংশ কোড উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে দেওয়া আছে। বরাদ্দ এলে সংস্কার করা হবে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ হেল আল মাসুম জানান, “গ্রামীণ অনেক রাস্তায় ইতোমধ্যে মেকাডমের কাজ হয়েছে। ধাপে ধাপে সব রাস্তায় কাজ করা হবে। তবে বর্ষাকালে কোনো বরাদ্দ থাকে না।”
শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্নিগ্ধা দাস বলেন, “বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তাগুলোতে চলাচলে সমস্যা হয় ঠিকই। তবে ধাপে ধাপে সব রাস্তা পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ততদিন সবাইকে একটু কষ্ট করে চলতে হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, রাস্তাগুলোর দ্রুত সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে, বর্ষাকালে চলাচলের এই দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করবে। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.