মো.মোকাররম হোসাইন, কালাই (জয়পুরহাট)
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় শ্রাবণের শুরুতেই ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় খুশিতে ভাসছেন এলাকার রোপা-আমন চাষিররা। দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির কারণে মাঠ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। রোদে খাঁ খাঁ করছিলো ধানের জমি। চাষের উপযুক্ত সময় চলে গেলেও বৃষ্টির দেখা না মেলায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছিলেন কৃষকরা।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে কালাইয়ে শুরু হয় শ্রাবণের বৃষ্টি। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই বৃষ্টি রূপ নেয় ভারী বর্ষণে। এতে করে কৃষিজমিগুলোতে জমে গেছে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি। ফসলের মাঠে যেন ফিরে এসেছে প্রাণ।
চাষিরদের একজন আইনুল ইসলাম বলেন, “জমিতে পানি না থাকায় ধান রোপণ করতে পারছিলাম না। পাম্প দিয়ে পানি দিতে গেলে খরচ বাড়তো। এখন এই বৃষ্টিতে মনে স্বস্তি পেয়েছি।”
একইভাবে কৃষক কাদের, রুবেল, ইসমাইলসহ আরও অনেকে জানান, তারা সেচের চিন্তা করছিলেন। কারণ আলুর দাম না থাকায় উৎপাদন খরচ কমিয়ে রাখাটাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। শ্রাবণের শুরুতেই বৃষ্টির ফলে তারা এখন চাষ শুরু করতে পারছেন।
তবে ভারী বৃষ্টিতে জমিতে বেশি পানি জমে যাওয়ায় কিছু কৃষককে এখনই মাঠে নামতে না পারার কথাও জানান কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
কালাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনাবৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক নির্দিষ্ট সময়ে জমি চাষ শুরু করতে পারেননি। তবে বৃষ্টির ফলে কৃষিকাজে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, “আজ সকাল থেকে যে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, তা কৃষকদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। অনেকেই এখন রোপা আমনের জন্য জমি তৈরি করছেন। কিছু চাষি ইতোমধ্যে সেচ দিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। মাঠপর্যায়ে আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।”
শ্রাবণের বৃষ্টিতে ভিজে আবারও আশার আলো দেখছেন কালাইয়ের কৃষকরা। প্রকৃতির এমন সহায়তায় সফল ফসল ঘরে তুলতে পারলে বছরজুড়ে খানিকটা নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.