আক্তারুজ্জামান বাচ্চু,সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় বিরামহীন বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌরসদরসহ বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কলার ভেলায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হচ্ছে নাগরিকদের। বাসাবাড়িতে পানি ওঠায় রান্না বান্নায় হিমসিম খেতে হচ্ছে গৃহিণীদের। টয়লেট ব্যবস্থাসহ সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বহু জায়গায় ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে চলা রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌরসদরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। মাঝখানে দুইদিন বিরতির পর গত রবিবার বিকেল থেকে আবারো বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বিরামহীন এই বৃষ্টি কখনো জোরেসোরে আবার কখনো গুড়ি গুড়ি। একঘেয়েমি বৃষ্টিপাতে বিশেষ দরকার ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ভ্যান, রিকশা, ইজিবাইক,ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ শ্রমজীবীরা শহরে বের হলেও তাদের উপার্জন নেই বললেই চলে। বেকার সময় পার করছেন তারা। জনজীবন যেনো থমকে পড়েছে। দোকান পাট খোলা থাকলেও অনেকটা ক্রেতা শুন্য।
ভ্যান চালক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির মধ্যে সকালে ধুলিহর থেকে শহরে এসেছি। এখন বিকেল হয়ে গেছে। একজন যাত্রীও ভ্যানে ওঠেনি। একটি টাকাও কামাই হয়নি। অভাবের সংসার। বাজার করবো কি দিয়ে।
একই কথা বললেন, রইচপুরের আলাউদ্দিন, আশরাফুলেরা। পাকাপোলের মোড়ে সকালে আসা ইব্রাহিম,করিমসহ কয়েকজন বলেন, শ্রম বিক্রি করতে সকালে এসেছি। কেউ আমাদের কোন কাজে কিনলো না। টাকা নেই। বাড়িতে বাজার নিয়ে যাবো কিভাবে? এদিকে,গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে পৌরসভার ২, ৩, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়ে পড়েছে। এসমস্ত এলাকার অধিকাংশ রাস্তা ঘাট পানিতে তলিয়ে আছে। বাসা বাড়িতে পানি ঢুকেছে। শিক্ষা -প্রতিষ্ঠানে পানি। টিউবওয়েল ডুবে গেছে। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন খাত। চলছে না চুলা। অনেকেই অন্য জায়গায় চলে গেছেন। কলার ভেলা, ককসিটে করে আবার কোমর সমান পানি ঠেলে মানুষ চলাচল করছে।
কামালনগর, ইটাগাছা, পলাশপোলের মধুমোল্লারডাঙি, মেহেদীবাগ, রসুলপুর, বদ্দিপুর কলোনি, রইচপুর, কাটিয়া, রথখোলা, রাজারবাগান, গদাইবিল, মাঠপাড়া, পার-মাছখোলা ও পুরাতন সাতক্ষীরার মতো নিচু এলাকাগুলোতে থৈ থৈ পানি। এসমস্ত এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতি বছর বর্ষাকালে একই অবস্থা হয়। কিন্তু পানি সরানোর কোন ব্যবস্থা হয় না। বছরের প্রায় তিন চার মাস আমাদের এই দূর্ভোগ পোহাতে হয়। এজন্য তারা পৌরসভাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে ব্যবস্থা না নেয়ার জন্য দায়ী করেছেন। অপরিকল্পিত নগরায়ন, ত্রুটিপূর্ণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও যত্রতত্র বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের করায় জলাবদ্ধতার এই দূর্দশায় ভুগতে হয় সাধারণ নাগরিকদের।
সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসক মাশরুবা ফেরদাউস সাংবাদিকদের বলেন, ‘পৌর এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে, ড্রেনের মুখগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। আমাদের পৌরসভার কর্মীরা ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যে খাল রয়েছে তার কচুরিপানা পরিষ্কার করছে, যাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সার্কিট হাউস থেকে বাইপাস পর্যন্ত একটি বড় ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাজেটের সঙ্গে সঙ্গে বাকি কাজগুলোও বাস্তবায়ন করা হবে।’
পৌর প্রশাসক আরো বলেন, এই মুহূর্তে ‘ত্রাণ খাতে পৌরসভায় কোনো বরাদ্দ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে, সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় সাতক্ষীরায় ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আর গত কয়েকদিনে সাতক্ষীরায় ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে, আগামীকাল বুধবার থেকে বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.