রাসেল আহমেদ, খুলনা
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় চিত্রা নদীর ওপর নির্মিত একটি জরাজীর্ণ কাঠের সেতু এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিনের দুর্ভোগ ও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে নড়বড়ে ও ভাঙাচোরা হয়ে যাওয়া এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
উপজেলা পরিষদের লাগোয়া ৩৮ নম্বর তেরখাদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত সেতুটি একমাত্র চলাচলের ভরসা হয়ে আছে। বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০-৪০০ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ হাজারো পথচারী এই সেতু ব্যবহার করে থাকেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর অধিকাংশ কাঠ পচে গেছে, কিছু জায়গায় কাঠের তক্তাই নেই। লোহার খুঁটিও অনেক জায়গায় ঢিলে হয়ে গেছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমন মোল্লা বলেন, “সেদিন এক স্কুলছাত্র পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। এরপরও কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া নেই।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পান্না সাহা ও লামিয়া খাতুন জানান, “প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় খুব ভয় লাগে। সেতুর ওপর দিয়ে হাঁটতে গেলে মনে হয় কখন না জানি পড়ে যাই।”
এই সেতুর ওপর শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, তেরখাদা উপজেলা পরিষদ, হাসপাতাল, বাজার, সরকারি বিভিন্ন অফিস এবং আশপাশের গ্রামীণ কৃষকরাও নির্ভরশীল। ধান, সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়ার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকবার নামমাত্র সংস্কার করেই দায় সেরেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এখন আর সাময়িক মেরামত নয়, এলাকাবাসী দাবি করেছেন—এই সেতুর স্থলে একটি নতুন ও পাকা সেতু নির্মাণই একমাত্র স্থায়ী সমাধান।
উপজেলা প্রকৌশলী ভাস্কর মৃধা বলেন, “আমরা খুব দ্রুত সরেজমিনে গিয়ে সেতুটির অবস্থা পর্যালোচনা করবো এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করব।”
এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.