প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১০, ২০২৬, ১১:৪৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ২৫, ২০২৫, ৯:২১ অপরাহ্ণ
কোটালীপাড়ায় ভাঙ্গারি ব্যবসার আড়ালে চলছে চোরাই মালের বেচাকেনা

কোটালীপাড়া প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ভাঙ্গারি ব্যবসার আড়ালে চলছে চোরাই মালের বেচাকেনা।
সম্প্রতি একটি চোরাই ট্রলার জিলাল সিকদার নামে এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী ক্রয়ের পর ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
এই চোরাই ট্রলার বিক্রির সাথে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়ের কিছু ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপি জরুরী সভা ডেকে কুশলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া ঠান্ডা ও হিরন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নান্নু দাড়িয়ার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করে। তিন দিনের মধ্যে এই কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সরেজমিনে জানাগেছে, কুশলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া ঠান্ডা, ১ নং ওয়ার্ডের সহসভাপতি কামরুল শেখ ও বিএনপি নেতা মহম্মদ আলী ওরফে কানা মহম্মদ ট্রলারটি পবনারপাড় গ্রামের নদীর পাড়ে উঠিয়ে ৩ দিন ধরে কেটে পশ্চিমপাড়ে জিলাল সিকদারের ভাঙ্গারির দোকানে বিক্রি করেন।
এ ঘটনা স্থানীয় আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট করে লিখেন, ‘বিএনপিকে মন থেকে ভালোবাসতাম কিন্তু কুশলা ইউনিয়নের সকল চুরি ডাকাতির গডফাদার সেলিম মিয়া ঠান্ডা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় দলটার প্রতি জনসাধারণের ঘৃনা সৃষ্টি হচ্ছে । পবনারপাড় ট্রলার চুরির ঘটনায় ঠান্ডা স্পষ্টভাবে জড়িত। অবিলম্বে তার পদ থেকে অব্যাহতি চাই'।
পবনারপাড় গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, কুশলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া ঠান্ডা মিয়া, ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী কামরুল শেখ ও বিএনপি নেতা মহম্মদ আলী ওরফে কানা মহম্মদ লেবার দিয়ে ট্রলারটি নদীর পাড়ে টেনে তোলেন। ষ্টীল ও লোহার তৈরী বিশাল আকৃতির এই ট্রলারটি গ্যাস মেশিন দিয়ে একটানা ৩ দিন ধরে কাটা হয়। এরপর টিহাটি গ্রামের জিলাল সিকদারের পশ্চিমপাড়ের ভাঙ্গারির দোকানে তারা বিক্রি করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পবনারপাড় গ্রামের এক মুরব্বি বলেন, ঠান্ডা মিয়া এক সময় জননেত্রী সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। বিভিন্ন এনজিওর নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছেন। ৫ আগষ্টের পর এলাকায় এসে হয়ে যায় বিএনপি নেতা। তার মামলা বাণিজ্যসহ নানা হয়রানীতে এলাকার মানুষ এখন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
বিএনপি নেতা কামরুল শেখ বলেন,আমরা ট্রলারটি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থেকে কিনেছি। অর্ধেক ট্রলার আরো ৭/৮ মাস আগে জিলাল সিকদারের ভাঙ্গারির দোকানে বিক্রি করেছি। বাকি অর্ধেক ঠান্ডা মিয়ার সহযোগিতায় গত সপ্তাহে একই দোকানে বিক্রি করা হয়েছে। তবে মেহেন্দীগঞ্জের কার কাছ থেকে কেনা হয়েছে, এমন প্রশ্ন করা হলে বিএনপি নেতা কামরুল শেখ কোন জবাব দিতে পারেনি।
বিএনপি নেতা সেলিম মিয়া ঠান্ডা বলেন, ট্রলারটি চোরাই কিনা আমার জানা নাই।কয়েক দিন আগে কিছু ব্যক্তিকে পবনারপাড় গ্রামের নদীর পাড়ে বসে ট্রলারটি কেটে বিক্রি করতে দেখেছি। আমি এই কাজের সাথে জড়িত নই।
বিএনপি নেতা নান্নু দাড়িয়া বলেন, ট্রলার বিক্রির বিষয়ে আমার জানা নেই।আমাকে কেন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে আমার জানা নেই।
ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী জিলাল সিকদার বলেন, আমি রহিম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ট্রলারের ভাঙ্গা অংশগুলো কিনেছি। এটি চোরাই ট্রলার ছিল কিনা তাহা আমি জানি না।
তবে রহিম নামের ব্যক্তির নাম, ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর জানতে চাওয়া হলে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী জিলাল সিকদার তাহা দিতে পারেনি।
বিএনপি নেতাদের কারণ দর্শানো নোটিশ ও চোরাই ট্রলার বিক্রির বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে দুই নেতাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ট্রলার বিক্রির বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে আমরা সে বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্তে তারা দোষী প্রমানিত হলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোটালীপাড়া থানার এস আই মামুন বলেন,ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চোরাই মালামাল বেচাকেনার যে অভিযোগ উঠেছে সেটি আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.