দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর দুমকিতে জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের চরবয়েড়া এলাকার হনুফা-নূরআলী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ ঘটনা ঘটেছে।
বিদ্যালয়টির জমিদাতা পরিবারের সদস্য এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. কামরুজ্জামান হাওলাদার শুক্রবার সকালে দুমকি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার পিতা মো. ইয়াসিনের নামে রেকর্ডকৃত জমিতে ২০০৯ সালে কবলা দলিলমূলে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পাঠদান করে আসছিলেন। জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় একটি দেওয়ানি মামলাও চলমান।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ জুন রাতে প্রতিপক্ষ রাকিবুল ইসলাম নয়ন ও মুসা গং স্কুল মাঠে একটি ছাপড়া ঘর তোলে এবং পরদিন সকালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেয়। পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও প্রতিপক্ষরা তা মানেনি।
এছাড়া ২৪ জুলাই রাতে তারা স্কুলের লাইব্রেরির তালা ভেঙে স্টোররুমে পরিণত করে। সেখানে থাকা কাগজপত্র সরিয়ে ফেলা হয়, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর ও সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এমনকি ঘরের টিন খুলে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এখন শিক্ষার্থীরা স্কুল চত্বরে প্রবেশ করতেও ভয় পাচ্ছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কামরুজ্জামান।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলাম নয়ন বলেন, “স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে সরকারের পতিত আমলে জোরপূর্বক স্কুল নির্মাণ করেছিল। আমরা এখন আমাদের জমি ফেরত নিচ্ছি, এটা স্বাভাবিক বিষয়।”
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

