রাসেল আহমেদ,খুলনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে খুলনা-৪ (তেরখাদা-রূপসা-দিঘলিয়া) আসনে জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী তিন নেতার তৎপরতা ইতোমধ্যে আলোচনায় থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একমাত্র প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নেমে পড়েছে তারা।
এই আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭৩ জন। ভোটারদের অধিকাংশই বলছেন, এবার তাঁরা কাজের মানুষকে ভোট দিতে চান—যিনি কথায় নয়, বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কারা?
বিএনপির প্রার্থী তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন তিনজন:
আজিজুল বারী হেলাল: কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। স্থানীয় পর্যায়ে বেশ সক্রিয় এবং তৃণমূলের শক্ত অবস্থান তাকে এগিয়ে রাখছে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য।
পারভেজ মল্লিক: যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও লন্ডনে বিএনপির আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বর্তমানে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করছেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন,যা তাকে জনগণের নজরে আনতে সাহায্য করছে।তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমানের সঙ্গে সুসম্পর্ক তার প্রার্থিতাকে সম্ভাবনাময় করছে।
শরীফ শাহ কামাল তাজ: বিএনপির সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক। দলে দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা, অর্থনৈতিক সহায়তা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের কারণে তিনি তৃণমূলে জনপ্রিয়।
জামায়াতের কবিরুল মাঠে
জামায়াতে ইসলামী খুলনা জেলা শাখার নায়েবে আমির মাওলানা কবিরুল ইসলাম-কে প্রার্থী ঘোষণা করেছে আগেভাগেই। তিনি নিয়মিত ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন।
ইসলামী আন্দোলনের আলোচনায় ইউনুস আহমদ
ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ। ধর্মীয় বলয়ে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং মসজিদ-মাদরাসাভিত্তিক সাংগঠনিক সংযোগ তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।
ভোটারদের কণ্ঠে বাস্তব চাহিদা
খুলনা-৪ আসনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বলছেন, এবার আর প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়নই দেখতে চান।
বারাসাত এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শওকত শেখ বলেন, “শুধু কথা নয়, যার কাজে মানুষ উপকার পাবে, তাকেই ভোট দেব।”
কাটেঙ্গা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহিন আলম বলেন,“যুবকের জন্য কাজ চাই, ব্যবসার সুযোগ চাই। মুখের বুলি না, বাস্তব কাজ দেখাতে হবে।”
জয়সেনা গ্রামের কৃষক নিজাম খা বলেন,“কৃষককে কেউ গুরুত্ব দেয় না। এবার যিনি সত্যিকার অর্থে কৃষকের পাশে থাকবেন, তাকেই চাই।”
এক নজরে নির্বাচন ইতিহাস
বছর বিজয়ী দল নির্বাচন পদ্ধতি
১৯৯১ মোস্তফা রশিদী সুজা আওয়ামী লীগ সরাসরি নির্বাচন
১৯৯৬ মোস্তফা রশিদী সুজা আওয়ামী লীগ সরাসরি নির্বাচন
২০০১ এম নুরুল ইসলাম বিএনপি সরাসরি নির্বাচন
২০০৮ মোল্লা জালাল উদ্দিন আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়
২০১৪ আওয়ামী লীগ প্রার্থী আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
২০১৮ আওয়ামী লীগ প্রার্থী আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
উপ-নির্বাচন সালাম মুর্শেদী আওয়ামী লীগ বিনা ভোটে জয়
ত্রিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত
বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও যেভাবে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠে সক্রিয়, তা স্পষ্টতই জমজমাট লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে। জামায়াতের আগেভাগের প্রস্তুতি এবং ইসলামী আন্দোলনের সম্ভাব্য আগমন খুলনা-৪ আসনে ভোটের উত্তাপ বাড়িয়ে তুলছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কার ঘরে যাবে খুলনা-৪ এর বিজয় মুকুট—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.