এম এ ফয়সাল(তালা) সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁধনডাঙ্গা গ্রামের মোঃ সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ ব্যবহার করে সরকারি ভাতা উত্তোলন এবং তার দুই ছেলেকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে গণস্বাক্ষরিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৪৮০০.০০০০.০০৪.৪১.০০১.২৪.৩২৭৩ নম্বর স্মারকের প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর বাঁধনডাঙ্গা গ্রামে বিকেল ৩টায় তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা সাক্ষ্য দিয়ে জানান—সিরাজুল ইসলাম ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি।
অভিযোগে বলা হয়, মোঃ সিরাজুল ইসলাম ২০০৫ সালে আর্থিক লেনদেন ও ভুয়া স্বাক্ষীর মাধ্যমে নিজেকে ‘গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন। তার গেজেট নম্বর ১৭৯২ এবং পরিচিতি নম্বর ০১৮৭০০০৩২০১। বেসামরিক গেজেটে ক্রমিক নম্বর ৪৬ হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অথচ লাল মুক্তিবার্তা বা ভারতীয় তালিকায় তার নাম নেই।
এলাকাবাসীর দাবি, সিরাজুল ইসলাম কখনো মুক্তিযুদ্ধের কোনো সেক্টরে বা অপারেশনে অংশগ্রহণ করেননি। বরং তিনি ভুয়া সনদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ভাতা তুলে আসছেন এবং দুই ছেলেকে সরকারি চাকরিতে ঢুকিয়েছেন।
৮ ও ৯ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করা একাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা—আবু হানিফ, মোঃ ইউনুস আলী, মল্লিক ইসমাইল হোসেন, আব্দুল বারি, ও মোঃ অজেত আলী লিখিতভাবে প্রত্যয়ন করেছেন যে, সিরাজুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কোনো ইউনিটে কিংবা অপারেশনে অংশ নেননি। তারা মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর পক্ষে মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, আব্দুল জলিল, হারু সানা, রেজাউল হক ও আব্দুস সালাম বলেন, “সিরাজুল ইসলাম একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা সনদের মাধ্যমে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।” তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে তার নাম বাতিলের দাবি জানান।
এদিকে অভিযুক্ত মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আমার বিরুদ্ধে একটি মক্তবকে কেন্দ্র করে কিছু লোক ষড়যন্ত্র করছে।”
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়াইব আহমাদ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রাথমিক তদন্ত করেছি। দ্রুত চূড়ান্ত তদন্ত করে সচিবালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.