মো.সাগর মল্লিক, ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
“গরিবের হক কেড়ে খাওয়ার দিন কি শেষ হবে না?”—এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বাগেরহাটের ফকিরহাট সদর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। কারণ, ইউনিয়ন পরিষদে সেবার নামে ঘুষ, হয়রানি ও অনিয়ম যেন পরিণত হয়েছে নিত্যদিনের ঘটনায়।
সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুহাম্মাদ এহসানুল হাসানের বিরুদ্ধে উঠেছে ঘুষ গ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগকারীরা বলছেন, নাগরিক সেবা নিতে গেলেই বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা না দিলে দিনের পর দিন ঘুরিয়ে হয়রানি করা হয়।
ভুক্তভোগী আফরোজা বেগম জানান, “আমার দুলাভাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তখন মৃত্যু সনদ নিতে গিয়ে তিনি আমার কাছ থেকে ১০০ টাকা নেন। একইভাবে ভাগ্নের জন্মনিবন্ধনের জন্য আরও ১০০ টাকা দাবি করেন। পরে জানতে পারি, এসব সেবা সরকারিভাবে বিনামূল্যে দেওয়ার কথা। আমি প্রতিবাদ করলে প্রথমে আমাকে অফিস থেকে বের করে দেন, পরে চাপ এলে টাকা ফেরত দেন।”
অপর এক ভুক্তভোগী হামিম হোসেন বলেন, “জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে একাধিকবার অফিসে ঘুরেছি। শেষমেশ টাকা দিয়েই করতে হয়েছে। কিন্তু পরে দেখি, আমার বাবাকে সেখানে মৃত দেখানো হয়েছে—যিনি এখনও জীবিত আছেন। এটি অবহেলা নয়, এটি সরাসরি অপরাধ।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মুহাম্মাদ এহসানুল হাসান পূর্বের কর্মস্থলেও একই ধরনের অনিয়মে জড়িত ছিলেন। এমন একজন ব্যক্তির হাতে জনগণের মৌলিক সেবা থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য চাইলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা এহসানুল হাসান বলেন, “কাজ করতে গিয়ে ভুল হতেই পারে। ভুল করে টাকা নিয়েছিলাম, পরে তা ফেরত দিয়েছি।”
তবে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন। তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমনে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি। ফকিরহাটবাসী চায়, এসব হয়রানি ও অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.