খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে ফুটফুটে একটি শিশু ঘুমিয়ে আছে নির্ভার। কে তার আপনজন, জানা যায়নি এখনও। তবে শিশুটিকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা ও আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।
রোববার (২৭ জুলাই) খুলনার ফুলতলা উপজেলার সড়কের পাশে পড়ে থাকা অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তাকে ভর্তি করা হয় খুলনা মেডিকেলে। এরপর থেকেই নবজাতক শিশুটিকে এক নজর দেখতে এবং দত্তক নিতে ছুটে আসছেন অনেকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৮ জুলাই) রাত ৯টা পর্যন্ত শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য ১৫টি আবেদন জমা পড়েছে। আরও কয়েকজন আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন। সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, দত্তক প্রক্রিয়া সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে আগ্রহীদের জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভাপতির বরাবর আবেদন করতে বলা হয়েছে। নবজাতক উদ্ধারের ঘটনা রোববার ভোরে দামোদর ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া এলাকার একটি সড়কের পাশে নবজাতকের কান্না শুনে এগিয়ে যান স্থানীয় সোনিয়া বেগম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রতিবেশী তুলি বেগম। তারা দু’জনে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনীম জাহান ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে খুলনা মেডিকেলে পাঠান। হাসপাতালের পরিস্থিতি খুলনা মেডিকেলের নবজাতক বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটিকে দেখতে চাচ্ছেন অনেকেই। তবে কর্তৃপক্ষ সবকে অনুমতি দিচ্ছে না। নিরাপত্তা ও সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সীমিত সংখ্যক দর্শনার্থীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার দুটি ছেলে। ফেসবুকে মেয়েটির ছবি দেখে স্ত্রী বলেছে হাসপাতালে যেতে। মেয়েটিকে দেখে খুব মায়া লেগেছে। যদি কেউ না নেয়, আমরা তাকে দত্তক নিতে চাই।’ চলছে আবেদন যাচাই খুলনার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা এবং ফুলতলা
উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবিদা আফরিন বলেন, ‘১৫টি আবেদন আমরা পেয়েছি। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভায় এসব আবেদন নিয়ে আলোচনা হবে। যদি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না হয়, শিশুটিকে আপাতত মহেশ্বরপাশার ছোটমনি নিবাসে পাঠানো হবে।’ শিশুটি সুস্থ হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের প্রধান ডা. ফররুখ আহাম্মদ বলেন, ‘শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ আছে। মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
এদিকে ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, নবজাতকের প্রকৃত বাবা-মাকে শনাক্তে কাজ চলছে। এখনও কেউ পরিচয় দাবি করে যোগাযোগ করেননি। এখন সমাজই শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছে। তাকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা যেন জানিয়ে দিচ্ছে—এ সমাজে এখনও মানবতা বেঁচে আছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.