রুহুল আমিন, যশোর প্রতিনিধি
যশোর জেলার ১ হাজার ২৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপন করা ডিজিটাল হাজিরা মেশিনগুলো তিন বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আধুনিকায়নের উদ্দেশ্যে স্থাপিত এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়লেও সেগুলোর সংস্কার কিংবা পুনরায় চালুর জন্য কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। ফলে বাধ্য হয়ে এখন আবারও শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতাভিত্তিক পুরোনো এনালগ পদ্ধতিতে নেয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২০১৮ সালে এসব মেশিন স্থাপন করা হয়। এর পাশাপাশি চালু করা হয় মাল্টিমিডিয়া পাঠদান পদ্ধতি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ডিজিটাল হাজিরা মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে, যা শিক্ষকদের জন্য এখন শুধুই বোঝা।
সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার বলেন,“মেশিনটি স্থাপনের এক বছর পরেই স্ক্রিন ঘোলা হয়ে যায় এবং কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর তা খুলে রেখেছি।”
ইন্সটিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা শিরিন সুলতানা জানান,“দেড় বছরের মধ্যেই আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণে ব্যর্থ হয় মেশিনটি। ২০২০ সালে করোনার সময় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আর কখনো চালু হয়নি।”
উপশহর শহিদ স্মরণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাদ হোসেন বাবুও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান।
জানতে চাইলে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহাবুবুর রহমান বলেন,“মেশিন মেরামত বা নতুন করে চালুর জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। তাই উদ্যোগও নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
চৌগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমানও একই কথা জানান।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম বলেন,“প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত মেশিন চালু রাখার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি।”
স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবি, মেশিন স্থাপন করে ফেলে রাখার চেয়ে সেগুলো সচল রাখার দিকেই প্রশাসনের মনোযোগ দেওয়া উচিত।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.