যশোর প্রতিনিধি
মাগুরার শালিখা উপজেলার ইজিবাইক চালক আল আমিন হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত। রোববার (৩ আগস্ট) যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক জয়ন্তী রাণী দাস এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মাগুরা শালিখা উপজেলার রামপুর গ্রামের জুয়েল খান, যশোর সদরের মথুরাপুর গ্রামের বাসিন্দা হারুন অর রশীদ এবং উত্তর ললিতাদাহ গ্রামের আলামিন। অপর সাজাপ্রাপ্ত আসামি রাসেল মোল্যা পিরোজপুর সদর উপজেলার সবুজ নগর গ্রামের বাসিন্দা ও যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়ার জনৈক মুকুল প্রফেসরের বাড়ির ভাড়াটিয়া।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর ইজিবাইক চালাতে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি আল আমিন। পরদিন তার মরদেহ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বুধোপুর গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। একইসাথে চুরি হওয়া ইজিবাইকটি যশোরের চাঁচড়া ফাঁড়ি পুলিশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান ১১ ডিসেম্বর বাঘারপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে র্যাব তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতার করে। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হরষিত রায় চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত জুয়েল, হারুন ও আলামিনের বিরুদ্ধে হত্যা প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড এবং ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন। অপর আসামি রাসেল মোল্যাকে চোরাই ইজিবাইক ক্রয়ের অভিযোগে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেন।
আসামিদের মধ্যে হারুন ও রাসেল বর্তমানে কারাগারে থাকলেও জুয়েল আদালতে হাজিরা দিতে এসে পুলিশ পাহারার ফাঁকে পালিয়ে যায় এবং আলামিন জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এসএম আব্দুর রাজ্জাক।
এই রায়কে কেন্দ্র করে নিহত আল আমিনের পরিবারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, তবে এখনো পলাতক আসামিদের গ্রেফতার ও দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.