জি এম এমদাদ, কপিলমুনি (খুলনা)
"মাছে-ভাতে বাঙালি" – এই চিরচেনা প্রবাদটি যেন এখন হারিয়ে যেতে বসেছে কালের গর্ভে। এক সময়ের মাছপ্রেমী বাঙালির পাতে দেশীয় মাছের আধিপত্য থাকলেও এখন তা কল্পনাতীত হয়ে উঠেছে। কপিলমুনি ও আশপাশের এলাকায় এক সময় যেসব জলাশয় দেশীয় মাছের আধার ছিল, সেসব আজ শূন্যপ্রায়।
জলাশয় ভরাট, দুষণ, অতিরিক্ত আহরণ, নদী-উপনদীর নব্যতা হারানো এবং অপরিকল্পিত বাঁধ ও অবকাঠামো নির্মাণের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে শিং, পুটি, টেংরা, মলা, পাবদা, চাঁন্দা, খলিশা, কাঁচকি, কৈ, টাকি, গুলশা, চাপিলা, কুচো চিংড়ি, মাগুরসহ আরও বহু দেশীয় প্রজাতির মাছ।
স্থানীয় বাজারে দেশীয় মাছের সংকট এখন স্পষ্ট। কপিলমুনি বাজারের মাছ বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, “আগে প্রায় প্রতিদিনই আড়ৎ থেকে দেশী মাছ কিনতাম, কিন্তু এখন তেমন পাওয়া যায় না।”
পাইকগাছা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক জানান, “এলাকায় এখন বিল নেই বললেই চলে। সর্বত্র মৎস্য ঘের হওয়ায় নদীর সঙ্গে জলাশয়ের স্বাভাবিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন। কারেন্ট জালের ব্যবহার, কীটনাশক প্রয়োগ, মা মাছ ধরা এবং অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে দেশীয় মাছ হারিয়ে যাচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের মিঠা পানির ৫৪ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৩২ প্রজাতি ছোট, যার মধ্যে ৫টি চরম বিপন্ন, ১৮টি বিপন্ন এবং ৯টি সংকটাপন্ন।
ফলে কপিলমুনিসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এখন বাধ্য হয়ে তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, বার্মিজ রুই ও সিলভার কার্পের মতো চাষের মাছের উপর নির্ভর করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.