যশোর জেলা প্রতিনিধি
যশোরে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এনসিপির আয়োজিত দোয়া মাহফিলে হামলার অভিযোগে আহত অবস্থায় এক যুবককে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলাকারীরা দোয়া মাহফিলস্থলে থাকা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেছে। এছাড়া রান্না করা খাবারের হাঁড়ি ফেলে দিয়ে বাবুর্চিসহ এনসিপির নেতাকর্মীদের মারধর করে জখম করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্তদের একজনকে মারপিট করে পুলিশে দেয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে মামলা হয়েছে।
জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায়, যশোর সদর উপজেলার তফসিডাঙ্গা গ্রামের আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। আটক মামুন ওই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজেকে শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এনসিপি সদস্য দাবি করে যশোরের শংকরপুর এলাকার মৃত ছবেদ আলীর ছেলে আব্দুল সালাম খোকন (৫১) চারজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, তফসিডাঙ্গা গ্রামের মামুনের দুই ভাই মনিরুল ইসলাম, কামারুল ইসলাম এবং একই গ্রামের মৃত মশিয়ারের ছেলে ওমর ফারুক বাবলু। মামলায় খোকন অভিযোগ করেন, আসামিরা আওয়ামী লীগের সদস্য।
মঙ্গলবার বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তিনি তফসিডাঙ্গা গ্রামে দোয়া ও গণভোজের আয়োজন করেছিলেন। এ সময় আসামিরাসহ আরও ১০-১২ জন আওয়ামী সন্ত্রাসী বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। তারা প্রতিবাদ করলে খোকন ও বাবুর্চি রশিদকে রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। দোয়া মাহফিলের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয় এবং খাবারের ডেক ফেলে দেয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে মামুনকে ধরে ফেলে, অন্যরা হুমকি দিতে দিতে পালিয়ে যায়।মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় জনতা মামুনকে আটক করে মারধর করে এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে।
চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই তাপস কুমার পাল জানান, এ ঘটনায় রাতে মামলা হলে বুধবার সকালে মামুনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিকে, আদালত প্রাঙ্গণে মামুনের পরিবারের সদস্যরা একত্র হয়ে সাংবাদিকদের কাছে পাল্টা অভিযোগ করেন। তারা বলেন, মামুন ওই এলাকায় পুরাতন ও নতুন ইট বেচাকেনার ব্যবসা করেন। ইট ব্যবহারের জের ধরে একটি গোলযোগ হয়। পরে মামুনকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে এনসিপির যশোর জেলা সংগঠক নুরুজ্জামান বলেন, মামুনসহ অন্যরা সবাই আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য। তিনি আরও বলেন, তিনি ঘটনার পরপর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তার দাবি, আসামিরা প্রথমে বাধা দিলে স্থানীয়রা প্রতিরোধ করে। এতে মামুন আহত হন, অন্যরা পালিয়ে যায়। এটিই প্রকৃত ঘটনা বলে দাবি করেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.