শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। স্রোতে অল্পের জন্যে প্রাণে রক্ষা পেল চাচা-ভাতিজা।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান, দর্শনার্থী আজিজ মুন্সি সহ কয়েকজন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৬ টার দিকে দৌলতদিয়ার ৫ নং ফেরিঘাটের পন্টুনের সাথে বালুবোঝাই একটি বড় বলগেট বাঁধা ছিল।
তীব্র স্রোতের টানে বলগেটটির রশি ছিড়ে গিয়ে সজোরে পেছনে থাকা একটি কার্গো জাহাজে আঘাত করে। এ সময় কার্গোর উপর থাকা বেশ কয়েকজন লোক অল্পের জন্য নদীতে পড়ে যাওয়া হতে রক্ষা পান।
এদিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কার্গো ও বলগেট দুটি ৫ নং ঘাটের পন্টুনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে করে পন্টুনের পশ্চিম দিকে থাকা একটি মালবাহী ট্রলার পন্টুনের ধাক্কায় মুহূর্তে তলিয়ে গিয়ে স্রোতে হারিয়ে যায়।
এ সময় ট্রলারের চালক মোঃ বাচ্চু খা (৪০) এবং তার ভাতিজা সাব্বির খা (২০) পন্টুনের রশি ধরে কোন মতে প্রাণে রক্ষা পান।
দৌলতদিয়ার ৪ নং ফেরিঘাট সংলগ্ন সিদ্দিক কাজী পাড়ার বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত বাচ্চু খা জানান, নদীর পাড়ের তার বসতবাড়ি।
ভাঙন শুরু হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল হতে বাড়িঘর ভেঙে মালামাল ট্রলারে ৭ নং ফেরিঘাট এলাকায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছিলেন। বিকেলে বাড়িতে থাকা কিছু বালু ও মালামাল বোঝাই করে ৫ নং ঘাটের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম।
এ সময় পন্টুনের কাছাকাছি থাকায় প্রচণ্ড ধাক্কায় তাদের ট্রলারটি মুহূর্তে তীব্র স্রোতে ডুবে গিয়ে স্রোতে হারিয়ে যায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে আমরা দুই চাচা-ভাতিজা পন্টুনের রশি ধরে তীরে উঠতে সক্ষম হই। অন্যথায় তীব্র স্রোতের মধ্যে পড়লে হয়তো উঠতে পারতাম না।
বাচ্চু খার বড় ভাই সালাম খা জানান, সাড়ে ২৮ হাত লম্বা তাদের ট্রলারটি বানাতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছিল। নদী ভাঙনে বাড়িঘর ও বসতভিটে চলে যাচ্ছে। এখন উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ট্রলারটি হারিয়ে যাওয়ায় তার ভাই চরম বিপাকে পড়ে গেল।তবে সৃষ্টি কর্তার প্রতি শুকরিয়া যে তার ভাই ও ছেলে বেঁচে গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.