মো. সাদ্দাম হোসেন, সিলেট প্রতিনিধি
সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদা পাথর এলাকা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ পাথর উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শুরু হওয়া অভিযানে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট পাথর। এসব পাথর পুনরায় সাদা পাথর ও ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ফেলা হয়। অভিযানে লুট হওয়া পাথর পরিবহনকারী বেশ কিছু ট্রাকও আটক করেছে প্রশাসন।
বুধবার (১৩ আগস্ট) রাত ১২টার পর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান যৌথভাবে পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সিলেট শহর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ এলাকায় চলে এ অভিযান।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন্নাহার জানান, অভিযানে ৬ সদস্যের একটি দল যৌথবাহিনীর সহায়তায় বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে পুনরায় নদী ও সাদা পাথর এলাকায় ফেলে দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবারও অভিযান চলবে এবং যতদিন না সব পাথর উদ্ধার হচ্ছে, ততদিন এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক জরুরি সমন্বয় সভায় পাথর উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তও হয়।
রাত ১২টার পর থেকে যৌথবাহিনীর নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। সিলেট শহর থেকে সাদা পাথর এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়। ধলাই নদীর তীর থেকে চুরি হওয়া পাথরের স্তূপ উদ্ধার করে তা মূল এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া ওসমানী বিমানবন্দর এলাকায় সিলেট ক্লাবের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে বেশ কয়েকটি ট্রাক আটক করা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, যৌথভাবে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং পাথর উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।
সাদাপাথর লুটপাটের পর প্রশাসন ও পরিবেশবাদী মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। রিপোর্ট দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ আগস্ট।
এছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নয় সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তাদের মতে, লুটপাটে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনের কিছু সদস্যের জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাদাপাথর রক্ষায় সমন্বয় সভায় পাঁচটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়:
১. জাফলং ইসিএ ও সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনীর দায়িত্ব পালন।
২. গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের চেকপোস্টে যৌথবাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
৩. অবৈধ ক্রাশিং মেশিন বন্ধ ও তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা।
৪. পাথর চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।
৫. চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিনের সব দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে সাদা পাথর লুটপাটে জড়িত থাকার অভিযোগে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরেই সাদাপাথরের পাথর লুটপাট চলছিল। এই লুটপাট শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, সিলেটের পর্যটন শিল্পকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, চার বছর পরিবেশকর্মী হিসেবে সিলেটে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখতে পেরেছি, এখন উপদেষ্টা হয়েও পারলাম না।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.