মোছা: কাবা কাকলি, কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি
বুড়িগঙ্গা বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক নদী, যা ঢাকা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে।
ঋতুবৈচিত্র্যময় এই দেশে বর্ষা ঋতুতে বুড়িগঙ্গা যেন সেজে ওঠে নতুন সাজে, কেড়ে নেয় দর্শনার্থীদের হৃদয়। বুড়িগঙ্গার প্রতি জমে থাকা সারা বছরের অভিমান ও অভিযোগ ভুলে গিয়ে এই সময়টাতে তার মুগ্ধতায় মুখরিত হয় সকলে।
সারা বছর এই বুড়িগঙ্গার পানির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে আশপাশের মানুষ ও দর্শনার্থীরা। তবে নতুন পানির ছোঁয়া পেয়ে কিছুটা দূষণমুক্ত এখন বুড়িগঙ্গা নদী, স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারছেন বসবাসকারী ও দর্শনার্থীরা।
শুধু বর্ষা মৌসুম ছাড়া বাকি মৌসুমগুলোতে এই নদীর পানির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয় সবাই, নষ্ট হয় পরিবেশ, বৃদ্ধি পায় রোগ-জীবাণু।
বুড়িগঙ্গা নদী বিভিন্ন কারণে দূষণের শিকার হয়ে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম কারণ হলো—অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্প-কারখানার বর্জ্য এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। এই নদীর পানিকে দূষিত করে চলেছে এসব উপাদান, যা এর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আর এই কারণেই এই ঐতিহাসিক নদীটির বিরুদ্ধে জমে আছে মানুষের হাজার রকমের অভিযোগ।
বুড়িগঙ্গা নদী ঢাকা শহরের ইতিহাসের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং এর তীরেই গড়ে উঠেছে এই প্রাচীন শহর। এটি মূলত গঙ্গা নদীর একটি প্রাচীন ধারা, যা কালের বিবর্তনে ধলেশ্বরী নদীর একটি শাখায় পরিণত হয়েছে। একসময় এই নদীর তীরেই ঢাকা শহরের গোড়াপত্তন হয়েছিল এবং এটি ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। নদীটি তার প্রাচীনত্ব ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি বর্তমানে দূষণ সমস্যার সম্মুখীন। এর যথাযথ ব্যবস্থাপনা না করলে অচিরেই প্রাণ হারাবে এই ঐতিহাসিক বুড়িগঙ্গা নদী।
নৌকার মাঝি সাইদুর রহমান বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝে অনেক ইতিহাস আর ঐতিহ্য লুকিয়ে আছে। এই নদীর তীর ধরেই সৃষ্টি হয়েছিল ঢাকা শহরের। তবে আজ নদীটির নেই আর তেমন মুগ্ধতা। কলকারখানার বর্জ্য, মানুষের ফেলানো ময়লা-আবর্জনার জন্য এই নদীটি তার সার্বভৌমত্ব হারাচ্ছে।
দর্শনার্থী মাহিদুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই বুড়িগঙ্গা নদীর ধারে আসা-যাওয়া করি। এই নদীর প্রতি একটা আলাদা ভালোলাগা কাজ করে। তবে এমন সময় আসে যখন নদীর কাছ দিয়ে যেতেও ঘৃণা লাগে—বাজে দুর্গন্ধ, ময়লা-আবর্জনা, পরিবেশ সবকিছু মিলিয়ে এখানে আসতেও অস্বস্তি লাগে। তবে এই সময়টাতে নতুন পানির ছোঁয়ায় পরিবেশটা বেশ ভালোই লাগে। সারা বছরের মান-অভিমান ভুলে গিয়ে এই সময় নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে চলে আসি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.