রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার জয়বাংলা মোড় এলাকায় নির্মাণাধীন নতুন জেলা কারাগারের কাজ শুরু হয়েছিল নয় বছর আগে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ। ইতোমধ্যে দফায় দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে আটবার, ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এরপরও গণপূর্ত বিভাগ এখনো এটি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারেনি।
জানা যায়, নগরীর ভৈরব নদের তীরে অবস্থিত ১১৩ বছরের পুরোনো জেলা কারাগারে বর্তমানে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ বন্দী থাকছেন। কারাগারটির ভবন জরাজীর্ণ হওয়ায় সেখানে বন্দীরা রয়েছেন চরম ঝুঁকির মধ্যে। এ অবস্থায় কারাবন্দীদের জন্য উন্নত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে খুলনার সিটি বাইপাস সড়কের পাশে জয়বাংলা মোড়ে নতুন জেলা কারাগার নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
অনুমোদন ২০১১, কাজ শুরু ২০১৬
প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দেয় ২০১১ সালে। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয় ১৪৪ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করে ২০১৬ সালের জুনে কাজ শুরু হয়।
২০১৭ সালে প্রথম সংশোধনে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৫১ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময় ছিল ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত। এরপর ২০২৩ সালে আবারও প্রকল্প সংশোধন করে ব্যয় ২৮৮ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। এ পর্যন্ত প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে মোট আটবার।
অর্ধসমাপ্ত কাজ, মাটি ভরাটই শেষ হয়নি
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট)খুলনা জেলা কারাগারের সুপার মো. নাসির উদ্দিন প্রধান,জেলার মো. মুনীর হুসাইনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা নতুন কারাগারটি পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তারা কাজের ধীরগতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
কারা কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, মাটি ভরাটের কাজ এখনো বাকি রয়েছে। অনেক ভবনের নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত। এই অবস্থায় হস্তান্তর সম্ভব নয়।
গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত ৫২টি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। করোনার সময় কাজ বন্ধ থাকায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলাম।
আধুনিক সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, নতুন জেলা কারাগারটি সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্য পৃথক আবাসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নারী, কিশোর-কিশোরী ও শিশুদের জন্য থাকবে আলাদা ব্যারাক, হাসপাতাল, মোটিভেশন সেন্টার, ডে-কেয়ার ও সংস্কৃতি চর্চার স্থান।
এছাড়া থাকছে:
৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল,কারারক্ষীদের সন্তানদের জন্য স্কুল ও লাইব্রেরি,বন্দীদের জন্য হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিনোদনকেন্দ্র, নামাজঘর, লন্ড্রি ও আধুনিক সেলুন,পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ,পয়ঃশোধনাগার ও ওয়াকওয়ের মতো অবকাঠামো
পুরোনো কারাগারে বন্দীদের দুর্দশা
বর্তমানে খুলনা পুরোনো জেলা কারাগারে বন্দীদের অবস্থান অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। ৭০০ জন ধারণক্ষমতার কারাগারে বন্দী রয়েছেন প্রায় ১,৪০০ জন। সেখানে পরিকাঠামোগত সংকট এবং জায়গার অভাবে বন্দীরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
কবে শেষ হবে নির্মাণ?
গণপূর্ত বিভাগ বলছে, চলতি বছরের মধ্যেই কাজ শেষ করে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রকল্পের অগ্রগতি দেখে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সময় আরও লেগে যেতে পারে।
নতুন কারাগার নিয়ে বারবার সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি অগ্রগতির ঘাটতি স্থানীয় পর্যায়ে হতাশা ও প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দ্রুততম সময়ে এই আধুনিক কারাগার চালু করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.