রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
টানা বর্ষণ,নদীভাঙন এবং জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত খুলনার উপকূলীয় কৃষকরা এবার আমন মৌসুমে চরম বিপাকে পড়েছেন। শুধু খুলনা জেলাতেই ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ১৩ হাজারের বেশি কৃষক। এ অবস্থায় এক ব্যতিক্রমী উদ্ভাবনী উদ্যোগে সাফল্য পেয়েছেন পাইকগাছার এক কৃষক পরিবার।
পাইকগাছা উপজেলার নোয়াকাটি গ্রামের কৃষক রোকেয়া পারভীন এবং তাঁর দেবর আব্দুল কুদ্দুস টানা বৃষ্টিতে বারবার বীজতলা নষ্ট হওয়ায় বিকল্প পথে হাঁটেন। তারা কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে একটি ভেলা তৈরি করেন, যাতে কাদামাটি দিয়ে বীজতলা বানানো হয়। এরপর ব্রি-৭৫ জাতের আমন ধানের বীজ ছিটিয়ে দেন। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সেই ভেলায় চারা গজায় এবং রোপণের উপযোগী হয়।
রোকেয়া পারভীন জানান, টানা বৃষ্টিতে তাঁর প্রায় ১০০ কেজি ধানের বীজ নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে একটি বেসরকারি সংস্থা অ্যাওসেড-এর পরামর্শে কলাগাছ দিয়ে ভাসমান বীজতলা তৈরি করেন। এতে আশাতীত ফলাফল পান।
আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রথমদিকে তাঁদের এ উদ্যোগ দেখে অনেকে হাসাহাসি করলেও এখন সবাই এসে দেখে যাচ্ছেন এবং উৎসাহ প্রকাশ করছেন। তিনি জানান, বীজতলায় কোনো রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি, তবুও চারা অত্যন্ত স্বাস্থ্যবান হয়েছে।
পাশের গ্রামের কৃষক কবির মোড়ল জানান, তাঁর নিজস্ব বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু রোকেয়ার তৈরি ভাসমান বীজতলায় মাত্র ১০ দিনেই তিন-চার ইঞ্চি উঁচু চারা হয়েছে, যা দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন এবং নিজেও একই পদ্ধতিতে চেষ্টা করতে আগ্রহী।
এ উদ্ভাবনে সহায়তা করেছেন অ্যাওসেডের কমিউনিটি মোবালাইজার শুভঙ্কর বিশ্বাস। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে পাইকগাছাসহ খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিকবার বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থায় বিকল্প পথ হিসেবে ভাসমান বীজতলা পদ্ধতি প্রস্তাব করা হয় এবং কৃষকরা সফলভাবে তা বাস্তবায়ন করেন।
অটোক্রপ নামের একটি কৃষি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, কলাগাছের তৈরি ভেলায় ধানের বীজতলা পদ্ধতি উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষকদের জন্য একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব সমাধান হতে পারে। তিনি বলেন, এই পদ্ধতি দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া গেলে দুর্যোগ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ রমেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় কৃষকদের এ ধরনের উদ্ভাবনী পদক্ষেপ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, এই পদ্ধতি দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জন্য সময়োপযোগী। ভাসমান বা উঁচু স্থানে বীজতলা তৈরি করলে কৃষকের ক্ষতি কমবে এবং উৎপাদন নিশ্চিতে সহায়তা করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.