রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
এক সময় দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে বিবেচিত ছিল খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম। আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের মতো অবকাঠামো থাকলেও বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে রয়েছে মাঠটি। ভেঙে পড়া গ্যালারি, অচল ফ্লাডলাইট, বিকল জায়ান্ট স্ক্রিন ও স্কোরবোর্ড—সব মিলিয়ে করুণ চিত্র এখন খুলনা স্টেডিয়ামে।
দীর্ঘদিন সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় মাঠটির অবস্থা দিনকে দিন আরও শোচনীয় হয়ে উঠছে। ২০১৬ সালের কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ড্রেসিংরুম ও প্রেসিডেন্ট বক্স। এরপর থেকে তা সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় বর্তমানে ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজনেও পড়তে হচ্ছে বিপাকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঠে নিয়মিত খেলা না থাকায় কমে যাচ্ছে স্থানীয়দের আগ্রহ, তৈরি হচ্ছে না নতুন প্রতিভা।
স্থানীয় ক্রিকেট কোচ সবুজ বলেন, ‘এত ভালো একটা মাঠ, অথচ বিসিবি কিংবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গাফিলতির কারণে আমরা আন্তর্জাতিক খেলা থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত। ক্রিকেট আয়োজন না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে নতুন ক্রিকেটার গড়ায়।’
মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আসন্ন জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) অংশ নেওয়া ক্রিকেটার রকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মাঠের অবস্থা খুবই করুণ। সামান্য বৃষ্টি হলেই অনুশীলনের উপযোগী থাকে না। স্টেডিয়ামে এলেই মনে হয় যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত কোনো এলাকায় এসেছি।’
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা বলছেন, তারা বহুবার স্টেডিয়াম সংস্কারের দাবি তুলেছেন। কিন্তু তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহ আসিফ হোসেন রিংকু বলেন, ‘খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা—এই ভেন্যুতে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনা হোক। এর জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন জরুরি।’
তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জানিয়েছে, খুলনা স্টেডিয়ামের পূর্ণাঙ্গ সংস্কারে প্রায় ১৩৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় থাকবে দ্বিতল গ্যালারি, আধুনিক ড্রেসিংরুম, নতুন ফ্লাডলাইট, সাইডস্ক্রিনসহ বিভিন্ন সুবিধা। বর্তমানে প্রকল্পটি রয়েছে সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যায়ে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা স্টেডিয়ামটি ভিজিট করে একটি প্রকল্প তৈরি করেছি। বর্তমানে এর সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এরপর তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে অনুমোদনের জন্য। পূর্ণাঙ্গ সংস্কার বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ হলেও পরিকল্পনা চূড়ান্ত।’
উল্লেখ্য, খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত এখানে তিনটি টেস্ট, চারটি ওয়ানডে ও পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
এরপর কেটে গেছে প্রায় এক দশক। খুলনার মাটিতে আর ফেরেনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। অথচ মাঠটি এখনও ধরে রেখেছে অপার সম্ভাবনা। প্রয়োজন কেবল সদিচ্ছা ও দ্রুত সংস্কার।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.