রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা মহানগর বিএনপির সদর থানার সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদের বিরুদ্ধে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলাও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ অবস্থায় তাকে ঘিরে চাপে পড়েছে মহানগর বিএনপি। তদন্তে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সম্প্রতি রেলওয়ের স্কুল ও মার্কেট সংলগ্ন জমি দখল, সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি সংক্রান্ত অভিযোগ উঠে মোল্লা ফরিদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
খুলনা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপংকর দাশ জানিয়েছেন, মোল্লা ফরিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশের সূত্র বলছে, তার বিরুদ্ধে ২২টির বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সোহেল, মোতালেব মোড়ল ও কমরেড রতন সেন হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগ। এছাড়া রয়েছে অন্তত ১০টি সাধারণ ডায়েরি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোল্লা ফরিদ। নবধারাকে তিনি বলেন, ‘আমি রেলওয়ের কোনো জায়গা দখল করিনি। শিল্প ব্যাংকের পাশের জমিটি আমি লিজ নিয়েছি। আর ব্যবসায়ী মিঠু আমার আত্মীয়। তার সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিষয় ছিল। কেউ চাঁদা দাবি করেনি।
তিনি আরও দাবি করেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ষড়যন্ত্র করে আমার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এখনো দলের ভেতরের একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ‘অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ রয়েছে—কোনো দখলবাজ বা চাঁদাবাজকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
মোল্লা ফরিদের বাসায় পুলিশি অভিযানের গুঞ্জন নিয়ে মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক শরিফুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘তার জীবনের ওপর হুমকি রয়েছে—এমন তথ্য পেয়েই পুলিশ সতর্কতামূলকভাবে তার বাসায় গিয়েছিল। সেখানে কোনো অভিযান হয়নি।
দলীয় সূত্র জানায়, খুলনার গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট সদর থানা বিএনপি। এর সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দলের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নেতাকর্মীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.