উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের উজিরপুরে এক বছর আগে পুকুরে ডুবে মারা যাওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন শিশু পুত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পূর্বের নারী নির্যাতন মামলার প্রতিশোধ নিতে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম একজন মাইক্রোবাস চালক এবং তিনি পূর্বে একটি অপহরণ মামলায় জেল খেটেছেন।
রোববার (২৪ আগস্ট) সকালে বরিশাল জেলার শিকারপুর বন্দরের ফল ব্যবসায়ী রুহুল আমিন মুন্সি এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তার কিশোরী কন্যা অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার ও দীর্ঘদিন জেল খেটে জামিনে মুক্ত হয়ে কামরুল ইসলাম এখন প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি গত ৬ আগস্ট উজিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে দাবি করেন, তার প্রতিবন্ধী পুত্র নিশাতকে হত্যা করেছে রুহুল আমিন মুন্সি ও তার পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল আমিন বলেন, “আমার মেয়েকে অপহরণের মামলায় কামরুল জেল খাটার পর এখন উল্টো আমাদের ফাঁসানোর জন্য তার এক বছর আগে ডুবে মারা যাওয়া ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এমন নাটক সাজিয়ে মামলা করেছে।”
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বরিশালের শিকারপুর বন্দরের একটি ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। তার আট বছর বয়সী প্রতিবন্ধী পুত্র নিশাত ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর নিখোঁজ হয় এবং ৪ দিন পর ২৪ নভেম্বর স্থানীয় একটি ডোবায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং এরপর তার দাফন সম্পন্ন হয়। সে সময় মৃত্যুটিকে স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।
এদিকে চলতি বছরের ৫ মার্চ কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রুহুল আমিন মুন্সির স্ত্রী নাসিমা বেগম তার মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে এবং কামরুলকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ কয়েক মাস জেল খাটার পর জামিনে মুক্ত হন তিনি।
কিন্তু জামিনে মুক্তির পর কামরুল ইসলাম পুরনো ঘটনার পুনরুজ্জীবন ঘটিয়ে নিশাতের মৃত্যু নিয়ে নতুন করে মামলা দায়ের করেন এবং রুহুল আমিন, তার স্ত্রী নাসিমা ও ছেলে রাতুলকে হত্যায় জড়িত বলে অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নাসিমা বেগম বলেন, “নারী নির্যাতন মামলার প্রতিশোধ নিতে আমাদের পরিবারকে হয়রানির জন্য কামরুল তার মৃত পুত্রকে সামনে এনে নতুন মামলা দিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, “এক বছর আগে শিশু নিশাতের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার বাদী কামরুল ইসলাম একটি অপহরণ মামলার আসামি এবং বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।”
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.