
হুমায়ন কবির মিরাজ,বেনাপোল
যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের কন্যাদাহ, রামেডাঙ্গা ও নারানতলা গ্রামের প্রায় ৩০০টি পরিবার টানা এক মাস ধরে পানিবন্দি অবস্থায় চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত পানির কারণে এসব এলাকার ঘরবাড়ি, আঙিনা এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। রোববার (২৪ আগস্ট) শার্শা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একশত পরিবারের মাঝে ৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। একই দিনে উপজেলা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক সহিদ আলী আশ্রয়কেন্দ্র ও গ্রামে শুকনো খাবার বিতরণ করেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, টানা পানিতে থাকায় প্রায় ৩৯ শত বিঘা জমির ফসল সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে। এর মধ্যে ধলহাহ মাঠে এক হাজার বিঘা, বেনেয়ালি মাঠে এক হাজার বিঘা, লাউতাড়া মাঠে সাত শত বিঘা ও কাশিয়াডাঙ্গা মাঠে পাঁচ শত বিঘা জমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে কৃষকরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় পড়েছেন।
গত ১৩ আগস্ট বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডা. কাজী নাজিব হাসান। তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
পানিবন্দি মানুষজন জানান, শুধু ঘরবাড়ি নয়, ফসলি জমি, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুও ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
এ প্রসঙ্গে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. কাজী নাজিব হাসান জানান, “কন্যাদাহে বন্যার্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে পানি বন্দি ৫০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.