রাসেল আহমেদ খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার পাওয়ার হাউস মোড়ে এক সময়ের কুখ্যাত এরশাদ শিকদারের নির্মিত ‘সাদ মনি মার্কেট’ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল ২০০২ সালে। ২৩ বছর পর সেই রেলওয়ের জমিতেই আবার গড়ে উঠছে নতুন মার্কেট। অভিযোগ উঠেছে, এই নির্মাণ কাজের পেছনে রয়েছেন খুলনা সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ ওরফে ফরিদ মোল্লা।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখল করে দোকান ও মার্কেট নির্মাণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে। এসব জায়গার মধ্যে রয়েছে ডাক্তারবাড়ি, রেলওয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশের জমি, ৬ নম্বর ঘাট এলাকার ঈদগাহ মাঠ, পুরাতন রেলস্টেশন, নদীবন্দর ঘাট ও রেলওয়ে কলোনির পুকুর। এসব স্থানে রাতারাতি টিনের ঘর ও দোকান নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,এসব স্থাপনার নির্মাণে সরাসরি তত্ত্বাবধান করেছেন ফরিদ মোল্লা। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ জানান, দোকান নির্মাণে বাধা দিলে তিনি ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেছেন। যদিও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে নাম বলতে চাননি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদ মোল্লা বলেন,এসব তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তিনি দাবি করেন,‘অন্যায়ভাবে এক টাকাও খাই না। যে জায়গাগুলো নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো আমার নামে না। আর রেলওয়ে কি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে?দেয়নি। তাহলে আমি দখলবাজ হলাম কীভাবে?’ তিনি আরও বলেন, ‘ঈদগাহের জায়গা কোনোদিনই ঈদগাহ ছিল না। অল্প কিছু জমি আমার ছেলের নামে,বাকিটা অন্যদের নামে নেওয়া।
পুরাতন রেলস্টেশনের জমিতে দোকান নির্মাণ নিয়েও ফরিদ মোল্লার বক্তব্য, ওই জায়গা কি আমার নামে? আরেকজনের জায়গায় আমি মার্কেট করব কীভাবে?’
তবে রেলওয়ের খুলনা ফিল্ড কানুনগো মো. সহিদুজ্জামান জানান, ডাক্তারবাড়ি ও ৬ নম্বর ঘাট এলাকায় গড়ে ওঠা মার্কেটগুলো অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছে। এসব স্থাপনা যেকোনো সময় উচ্ছেদ করা হবে। তিনি বলেন, ডাক্তারবাড়ির বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের ভাষ্য, ভৈরবী রেস্তোরাঁ ও তার পাশের জমি ফরিদ মোল্লা ও তার ঘনিষ্ঠ শফিকুল ইসলাম শফির নামে ইজারা নেওয়া হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার জানান, ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। যদিও কোনো লিখিত মামলা বা জিডি না থাকায় সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তবে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে এক মাসের আটকাদেশ চেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে।
পাওয়ার হাউস মোড়ের মার্কেট নিয়ে আরেকজন বিএনপি নেতা, সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি নাজির উদ্দিন আহমেদ নান্নুর নামও উঠে এসেছে। রেলওয়ের জমি তার নামে ইজারা থাকলেও পরে অর্ধেক জায়গা ফরিদ মোল্লা দখলে নেন এবং সেখানে দোকান নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ। ফরিদ মোল্লা দাবি করেন, নান্নুর ছেলে মাদক সেবন করে, তাকে শাসন করায় তারা ‘আজেবাজে কথা’ বলছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদ মোল্লা খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ফরিদ মোল্লা বিএনপির দুঃসময়ের সঙ্গী। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০০২ সালে এরশাদ শিকদারের সন্ত্রাসী শাসনের প্রতীক হয়ে ওঠা ‘সাদ মনি মার্কেট’ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল প্রশাসন। দুই দশক পর সেই জমিতে আবারও বেআইনি স্থাপনা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.