রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স—যেখানে রয়েছে অপারেশন থিয়েটার, এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ ও আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি। কিন্তু শুধুমাত্র সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় বন্ধ রয়েছে অপারেশন কার্যক্রম। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন অনেক রোগীকেই যেতে হচ্ছে ২৩ কিলোমিটার খুলনায়, অতিরিক্ত সময় ও অর্থ খরচ করে।
এক সময়ের ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল সংকট কাটেনি। ১৪৪টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৭৩টি এখন শূন্য। চিকিৎসক পদের সংকট সবচেয়ে বেশি—২১টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নুরুন্নবী তুহিন বলেন,
“চিকিৎসা দিতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। অল্প সংখ্যক জনবল নিয়ে প্রতিদিন গড়ে তিন-চারশ রোগীর সেবা দিতে হয়। এর মধ্যেও সেবার মান ধরে রাখার চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন,
“অপারেশন থিয়েটারে যন্ত্রপাতি প্রস্তুত, এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞও রয়েছেন। কেবল সার্জন পদটি শূন্য থাকায় অপারেশন কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় নিয়োগ পেলে দ্রুতই সেবা সম্প্রসারণ সম্ভব।”
চিকিৎসাসেবা পেতে আসা রোগীরা জানান, সামান্য অপারেশন বা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের খুলনায় যেতে হয়। এতে করে সময়, শ্রম ও খরচ—তিনটিই বেড়ে যায়।
রোগী জাহিদুল ইসলাম বলেন,
“এখানে ডাক্তার কম, কিন্তু যারা আছেন তারা আন্তরিক। তবে অপারেশন হয় না, কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও এখানে হয় না—সেজন্য আমাদের খুলনায় যেতে হয়।”
আরেক রোগী কালাম বলেন,
“যে চিকিৎসা এখানে হয়, তার টেস্ট খুলনায় করতে হয়। খুলনায় যাওয়া আমাদের মতো মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য।”
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স মীনা খানম বলেন,
“অপারেশন থিয়েটারটি আধুনিক যন্ত্রপাতিসম্পন্ন। একমাত্র সার্জনের অভাবেই তা চালু করা যাচ্ছে না। চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্রুত নিয়োগ খুবই প্রয়োজন।”
এদিকে জনবল সংকট ছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে আরও কিছু দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা। দুই যুগ ধরে এক্স-রে মেশিনটি বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাবও তীব্র। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা বেতন না পাওয়ায় অনেকেই দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না। তবে এসব সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট।
ডা. নুরুন্নবী তুহিন বলেন,
“আমি যোগদানের পর থেকেই সমস্যাগুলোর সমাধানে ধাপে ধাপে কাজ করছি। সিভিল সার্জন মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। আমরা আশাবাদী, অল্প সময়ের মধ্যেই অপারেশন কার্যক্রম চালু করতে পারবো। তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান আরও বাড়বে।”
তেরখাদাবাসীর প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল দ্রুত নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে আরও কার্যকর করে তোলা হবে। এতে করে আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষগুলো খুলনায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হবেন না, নিজের উপজেলােই পাবেন কাঙ্ক্ষিত সেবা।
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও কার্যকর নজরদারির মাধ্যমে একটি কর্মক্ষম ও জনগণনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তেরখাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.