অশোক মুখার্জি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
কলাপাড়া পৌরসভার নাগরিক সুবিধা যেন এখন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও রাজস্ব আদায়ের নামে চলছে ফ্যাসিবাদী ‘দৃশ্যপট’, আর পৌরবাসীকে দিনরাত ভুগতে হচ্ছে জলাবদ্ধতা, যানজট, মশার উপদ্রব ও সেবার নামে অব্যবস্থাপনায়।
ছবির দৃশ্য নয়, বাস্তব চিত্র এটি—পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড রহমতপুর এলাকার প্রধান সড়কে মাসের পর মাস ধরে জমে থাকা পানিতে চলাফেরা দুর্বিষহ। এমন জলাবদ্ধতা এখন শহরের আরও বহু সড়কে নিত্যদিনের দৃশ্য। এছাড়া শহরের ডজনখানেক সড়ক খানাখন্দে ভরা। প্রতিদিন এসব দুর্ভোগের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর ও প্রশাসনের নাম। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ—উন্নয়নের নামে চলছে অর্থ আত্মসাৎ ও দায়সারা কাজ।
সূত্র জানায়, শহরের অয়েলমিল মসজিদ সড়ক, টিএনও সড়ক, ইসমাইল তালুকদার টেকনিক্যাল সড়ক, ভূমি অফিস সড়কসহ অন্তত ১০টি সড়কে উন্নয়নের নামে হয়েছে অপরিকল্পিত কাজ। ড্রেনের ঢাকনা পথচারীদের কাজে না আসা, অনুমোদনহীন নকশায় বাড়ি নির্মাণ, একই স্থানে একাধিক ড্রেন নির্মাণ ইত্যাদি কাজে কারো পকেট ভারী হলেও পৌরবাসী পাচ্ছে না স্থায়ী সমাধান।
২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনের পর জনমনে আশার সঞ্চার হলেও বাস্তবে বদলায়নি কিছুই। অনলাইনে দরপত্র দেখালেও বাস্তবে নির্ধারিত ঠিকাদার আগেই কাজ সম্পন্ন করে ফেলে, পরে দরপত্রে যুক্ত করা হয়। রাজস্ব আদায় খাতে লোপাটের অভিযোগও উঠেছে একাধিকবার।
শহরের মাঝখানের খালটি দখল-দূষণে এখন মৃতপ্রায়। পারিবারিক ও বাজারের বর্জ্য ফেলায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, ছড়াচ্ছে ভয়াবহ দুর্গন্ধ। খালপাড়ের বাসিন্দারা জানান, তারা প্রতিদিন অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬ কোটি ২৮ লাখ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে মূলত সড়ক ও ড্রেন উন্নয়নে। সাম্প্রতিক সময়ে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ফেরীঘাট চৌরাস্তা থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত ওয়াকওয়ে নির্মাণ চলছে—যেখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছ রেখেই কাজ চলমান। অভিজ্ঞদের মতে, এটি যানজট আরও বাড়াবে।
নগরবাসীর অভিযোগ, বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতা, নেই সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশার উপদ্রব মারাত্মক, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে তীব্র সংকট এবং গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ এখন নিত্যসঙ্গী।
রহমতপুর এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট বিএইচ তালুকদার সুমন বলেন, “আমার বাসার সামনের রাস্তায় মাসের পর মাস পানি জমে থাকে। সাধারণ চলাফেরা ব্যাহত হলেও সংশ্লিষ্টরা নির্বিকার।”
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, “কলাপাড়া পৌরসভায় কোনও মাস্টার প্ল্যান নেই, অন্য পৌরসভায় সেটা দেখেছি। আমরা কিছু সড়ক সংস্কারের পরিকল্পনা করেছি, এডিবি’র বরাদ্দ পেলে তা বাস্তবায়ন করবো। দরপত্র অনলাইনে হলেও মাঠপর্যায়ে কী হচ্ছে, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়।”
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগের প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের তদারকি করছি। বিদ্যুৎ খুঁটি ও গাছ অপসারণে কাজ চলছে। দায়িত্ব নেয়ার পর এতিমখানা কবরস্থান সংস্কার, রোড লাইট স্থাপন, গরু-ছাগলের উপদ্রব কমানোসহ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। জলাবদ্ধতা ও রাস্তার সমস্যাগুলো সমাধানে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.