নবধারা ডেস্ক
ভোলা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. সাইফুল্লাহ আরিফকে (৩০) পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার দিবাগত রাতে ভোলা পৌরসভার কালিবাড়ী সড়ক এলাকার নববী মসজিদসংলগ্ন গলিতে তাঁর নিজের বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আজ শনিবার ভোরে পুলিশ সাইফুল্লাহ আরিফের মরদেহ উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।
আজ সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, নিহত আরিফের বাড়ির সামনে রক্ত জমে আছে। পড়ে আছে একটি ছেঁড়া প্লাস্টিকের চটি। ঘরের ভেতরে শোকাবহ পরিবেশ, নারীদের বিলাপ। আরিফের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবা মো. বসির উদ্দিন বারবার বুক চাপড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘আমার মাত্র একটা পুত, আল্লাহ তুমি লইয়া গেলা, মানুষ আমার পুতেরে পিটাইয়া মারলো।’
মো. বসির উদ্দিন বলেন, তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে আরিফ ছোট। তিনি ঢাকা সিটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেক্সটাইল প্রকৌশলে স্নাতক শেষ করেছেন। চাকরির খোঁজে ছিলেন। আরিফ ভোলা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দুদিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। গতকাল রাতে পরিবারের সঙ্গে খাওয়া শেষে রাত একটা পর্যন্ত নিজের কক্ষে ছিলেন। ভোরে ফজরের আজানের সময় বাবা নামাজ পড়তে বের হয়ে বাড়ির গেটে রক্ত দেখে চিৎকার দেন। এরপর রাস্তায় আরিফের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
পরিবারের অভিযোগ, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা আরিফকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে হাতুড়ি দিয়ে মাথা ও শরীরে পিটিয়ে হত্যা করে।
নিহত ছাত্রলীগ নেতার বাবা দাবি করেন, আরিফ গত ৫ আগস্ট থেকে প্রায় ছয় মাস আত্মগোপনে ছিলেন। অসুস্থ বাবাকে দেখতে দুদিন আগে বাড়ি ফিরে আসেন।
ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরিফুল হক নবধারা কে বলেন, এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর পেছনের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.