রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) মশক নিধন কার্যক্রমে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নেই বলেই প্রমাণিত হয়েছে পরীক্ষায়। নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, ছিটানো ওষুধে একটিও মশা মারা যায়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে কেসিসি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কার্যকর ওষুধ সরবরাহ করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড় সংলগ্ন কেসিসির গ্যারেজে ওষুধের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আসিফ রহমান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান,ছ ভেটেনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস, কনজারভেন্সি অফিসার মো. ওয়াহেদুজ্জামান খানসহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা।
কনজারভেন্সি অফিসার মো. ওয়াহেদুজ্জামান খান জানান, ৫ লিটার ডিজেলের সঙ্গে ৩৫০ মিলিগ্রাম সাইফারমেথ্রিন মিশিয়ে স্প্রে করা হয়। কিন্তু কোনো মশা মারা যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, কমপক্ষে ৮০ শতাংশ মশা মরলে ওষুধটিকে কার্যকর ধরা হয়। সেই হিসাবে ওষুধটি পুরোপুরি ব্যর্থ।
ভেটেনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস বলেন, "প্রথম দফার পরীক্ষায় ওষুধটি সম্পূর্ণ ফেল করেছে। এ দিয়ে কোনোভাবেই মশা নিধন কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। ঠিকাদার নতুন ওষুধ সরবরাহ করবে, সেটিও পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তবেই মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হবে।
তিনি আরও বলেন, "ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে করার পর ২০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। তবুও কোনো মশা মারা যায়নি। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে—ওষুধটির গুণমান ভালো নয়।
তবে নমুনা পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দিনা এন্টারপ্রাইজের প্রধান নির্বাহী শরফুদ্দিন টিপু। তিনি বলেন, "আইসিডিডিআরবি’র নিয়ম অনুযায়ী, বদ্ধ ঘরে দরজা-জানালা বন্ধ রেখে স্প্রে করতে হয়। এখানে খোলা জায়গায় স্প্রে করা হয়েছে। ফলে বাতাসে ২০ মিনিটে ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।
তিনি দাবি করেন, চীন থেকে আনা এই ওষুধের রেশিও আলাদা। ওপেন ফিল্ডে কাজ করাতে হলে রেশিও বাড়াতে হয় এবং একাধিক উপাদান মেশাতে হয়। কিন্তু এখানে শুধু ডিজেল ও একটি ওষুধ মেশানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আসিফ রহমান বলেন, ওষুধের কার্যকারিতা বাড়ানোর প্রয়োজন আছে। ঠিকাদারকে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন ওষুধ সরবরাহ করতে হবে। পরবর্তী পদক্ষেপ পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.