
লিয়াকত আলী খান,নোয়াখালী
নোয়াখালীর হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে মেঘনা নদীর ভাঙনে এক সময় গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে পরিচিত লাল পোল সেতুটি এখন নদীর মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। নদী ভাঙনের তীব্রতায় সড়ক ও আশপাশের বাড়িঘর সম্পূর্ণ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, লাল পোল সেতুটি দিয়ে কালাদূর থেকে ভূমিহীন বাজারে যাতায়াত করতেন হাজারো মানুষ। সেতুটি ছিল মানুষের প্রাণের সেতু। কিন্তু নদী ভাঙনের সঙ্গে সেতুটির আশপাশের সবকিছু হারিয়ে গেছে।
বৃদ্ধ কৃষক নুরুল আমিন বলেন, “আমরা বহুবার এই সেতু পার হয়ে বাজারে গিয়েছি, এখন নদী সব গিলে ফেলে সেতুটি শুধু করুণ স্মৃতির সাক্ষী।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, নদী ভাঙনে জীবিকা ও যাতায়াত বিপর্যস্ত, বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে অন্যত্র চলে গেছে।
চানন্দীর ব্যবসায়ী মো. ফাহিম বলেন, “নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো ছাড়া রুটি-রুজিও শেষ হয়ে গেছে। বহু মানববন্ধন করেছি, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হাতিয়ায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী জানান, প্রায় এক বছর আগে ব্রিজটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, আশপাশের বসত-সড়ক নদীতে বিলীন।
তিনি বলেন, “ছয় কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকে পাস হয়েছে, বাস্তবায়ন হলে ভাঙন কমবে বলে আশা করছি। তবে সেতুটির ক্ষতি দূর করা সম্ভব নয়।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.