জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা)
নদী বেষ্টিত আশাশুনিবাসীর দীর্ঘদিনের দুঃখ নদী ভাঙন রোধে বেড়িবাঁধ রক্ষা আজ সময়ের প্রধান দাবিতে পরিণত হয়েছে। এই দাবির অংশ হিসেবে ঘোলা খেয়াঘাট থেকে গরালী খেয়াঘাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কাজ সম্পন্ন হলে শ্রীউলা ইউনিয়ন, প্রতাপনগরের একটি ওয়ার্ড এবং পাশের ইউনিয়নের হাজারো মানুষের জলাবদ্ধতা ও ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
প্রায় প্রতি বছর ঘোলা-গরালী খেয়াঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়ে আসছে আশেপাশের এলাকা। এ অবস্থায় সরকার বাঁধ রক্ষার দায়িত্ব দিয়েছে এম এম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে। জাইকার অর্থায়নে দুটি প্যাকেজে যথাক্রমে ৬৫ কোটি ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৩৬ টাকা ও ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৬০২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মোট ৩ কিলোমিটার ৩০০ মিটার দীর্ঘ বাঁধের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল। প্রথমে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে বালিভর্তি বস্তা ফেলে ডাম্পিং কাজ শেষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৯ লাখ ডাম্পিং ব্লক তৈরির কথা থাকলেও ৭ লাখের বেশি কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ২ লাখ ১৪ হাজার প্লেসিং ব্লক তৈরির কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৩,৮০০ ব্লকের কাজ হয়েছে।
প্রকল্পের সার্ভেয়ার আব্দুল আলিম জানান, শুরুতে ব্লক তৈরির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়ায় কাজের গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। এজন্য দুই দফা সময় বাড়াতে হয়েছে। সর্বশেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রতিদিন ১৪০ জন নিয়মিত শ্রমিক কাজ করছেন, প্রয়োজনে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্যাকেজ-৪ এ ব্লক ডাম্পিংয়ের কাজ বাকী রয়েছে ৩২৩ মিটার এবং প্যাকেজ-৩ এ ৫২০ মিটার। এছাড়া ব্লক প্লেসিংয়ের কাজ ২-৩ দিনের মধ্যে শুরু হবে। প্রকল্পের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.