রুহুল আমিন, যশোর প্রতিনিধি
যশোরে আমন মৌসুমের শুরুতে সারের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ প্রায় অর্ধেক হওয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) উৎপাদিত টিএসপি সার মিলছে না প্রয়োজনমতো। ডিএপি ও এমওপি সারের ঘাটতিও প্রকট। ডিলারদের কাছে কৃষকরা বিঘাপ্রতি ১০ কেজির বেশি সার পাচ্ছেন না, তাও কিনতে হচ্ছে অতিরিক্ত দামে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে যশোরে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৫১ হেক্টরে। এ মৌসুমে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউরিয়ার চাহিদা ছিল ৪৭ হাজার ২২৩ মেট্রিক টন, বরাদ্দ মিলেছে মাত্র ২৫ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন। টিএসপি চাহিদা ১৩ হাজার ৮৪৩ টনের বিপরীতে বরাদ্দ এসেছে ৪ হাজার ৮৬৪ টন, ডিএপি চাহিদা ১৬ হাজার ৫৩১ টনের বিপরীতে বরাদ্দ ৯ হাজার ৮৮২ টন এবং এমওপি চাহিদা ২৩ হাজার ২৪৭ টনের বিপরীতে বরাদ্দ মাত্র ৬ হাজার ৯৮০ টন।
সরকার নির্ধারিত দামে (ইউরিয়া ও টিএসপি কেজিতে ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা, এমওপি ২০ টাকা) সার বিক্রির নিয়ম থাকলেও কৃষকরা বেশি দাম দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সদর উপজেলার চান্দুটিয়া গ্রামের কৃষক শফিয়ার রহমান জানান, তিনি ইউরিয়া কিনেছেন ২৮ টাকায়, টিএসপি ৪০ টাকায়, ডিএপি ২৬ টাকায় এবং এমওপি ২৪ টাকায়। চৌগাছার কৃষক রানা মিয়া জানান, আড়াই বিঘা জমির জন্য সার কিনতে গিয়ে তাকে নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০-১৫ টাকা বেশি দিতে হয়েছে।
ডিলাররা বলছেন, বরাদ্দ কম পাওয়ায় কৃষকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের দাবি, সারের কোনো সংকট নেই। যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপ-পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, “চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কিছুটা কম থাকলেও সরকারের কাছে মজুদ রয়েছে। বাজারে বেশি দামে বিক্রি ঠেকাতে মনিটরিং টিম কাজ করছে।”
বিসিআইসির যশোর উপমহাব্যবস্থাপক আক্তারুল ইসলাম জানান, জেলার ১৪১ জন ডিলারের মাধ্যমে সেপ্টেম্বর মাসে ৬ হাজার ৯২৩ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “যশোরে পর্যাপ্ত সার রয়েছে, কোনো সংকট নেই।”
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, “এখন আমন আবাদ শেষ পর্যায়ে। এ সময়ে সারের চাহিদা কিছুটা কমে যায়। ডিলারদের সুযোগ নেই বেশি দামে বিক্রি করার।”
তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের অভিযোগ ভিন্ন। তারা বলছেন, সংকট ও বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে বলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এতে আমন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.