কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা( ফরিদপুর) প্রতিনিধি
যে উঠোন জুড়ে শোনা যেতো খিলখিল হাসির শব্দ, যে নরম পায়ে সারাবাড়ি নেচে বেড়াত ছোট্ট আবু তালহা, সেই উঠোনই আজ ভিজছে স্বজনদের চোখের জলে। এক নিমিষের অসতর্কতা কেড়ে নিল সব। খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরের অথৈ জলে চিরতরে হারিয়ে গেল আড়াই বছর বয়সী এই ফুটফুটে শিশুতালহা।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনা পুরো এলাকাকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে।
নিহত শিশু আবু তালহা ওই গ্রামের হুমায়ুন কবীরের একমাত্র সন্তান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে এক অকল্পনীয় শূন্যতা, আর গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শোকের কালো মেঘ।
পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, বুধবার বিকেলে আর সব দিনের মতোই বাড়ির উঠোনে খেলছিল তালহা। তার মা-বাবা এবং অন্য স্বজনরা বাড়ির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এই ব্যস্ততার মাঝেই সবার চোখ এড়িয়ে ছোট্ট শিশুটি চলে যায় বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে। এরপরই ঘটে যায় সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
কিছুক্ষণ পর তালহাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরাও ছুটে আসেন। অবশেষে সবার সন্দেহ গিয়ে পড়ে পাশের পুকুরটিতে। সেখানে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় তালহার নিথর, ছোট্ট দেহটি।
বুকের মানিককে বাঁচানোর শেষ আকুতি নিয়ে তাকে দ্রুত আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশিকুর রহমান মাসুদ শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, "হাসপাতালে আনার অনেক আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।"
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজালাল আলম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, "খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। এটি একটি অবর্ণনীয় মর্মান্তিক ঘটনা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"
আবু তালহার এই অকাল প্রয়াণে শৈলমারী গ্রামের আকাশ-বাতাস যেন শোকে ভারী হয়ে উঠেছে। একটি সম্ভাবনাময় জীবনের এমন আকস্মিক পরিসমাপ্তি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.