কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
‘গ্রাম হবে শহর, পল্লী হবে সমৃদ্ধ’— সরকারের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশে ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছালেও জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার সড়াইল মহল্লার স্বামী পরিত্যক্তা বৃদ্ধা লিলিমন বেওয়া এখনো বিদ্যুৎবিহীন জীবনযাপন করছেন। গত ২২ বছর ধরে তিনি কুপির আলোয় রাত কাটাচ্ছেন, আর দিনে হিমাগারে আলু বাছাই কিংবা ঝি-এর কাজ করে যা আয় করেন তা দিয়েই কোনো রকমে খেয়ে বেঁচে আছেন।
ভাঙা টিনের খুপড়ি ঘরে একা বসবাস করা লিলিমনের জীবনযাত্রা অত্যন্ত করুণ। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎবিহীন ঘরে রাত কাটানো তার জন্য দুঃসহ হয়ে উঠেছে। আশপাশের বিত্তবান কিংবা প্রশাসনের কারো নজরেই আসেনি তার দুঃখগাথা।
স্থানীয় বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, “লিলিমন খুব কষ্টে থাকে। গরমে থাকতে পারে না বলে মাঝে মাঝে আমাদের বাড়িতে এসে ফ্যানের নিচে বসে। সরকার যদি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করত, তবে অন্তত শান্তিতে বাঁচতে পারত।”
প্রতিবেশী হানিফ মণ্ডল জানান, “লিলিমন বৃদ্ধ বয়সেও খেটে খাচ্ছেন। হিমাগারে আলু বাছাই করে যা পান তা দিয়েই চলে তার সংসার। সমাজের সবাই মিলে তার বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা জরুরি।”
অন্য প্রতিবেশী হাবিবুল হোসেন বলেন, “একজন নারী হয়ে একা বসবাস করাটাই কষ্টের, তার উপর বিদ্যুৎ নেই। ফ্যানের বাতাস ছাড়াই দিন কাটাচ্ছেন, এটা অসহনীয়।”
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিলিমন বলেন, “২২ বছর ধরে অন্ধকারে বসবাস করছি। খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি, বিদ্যুতের জন্য ৪-৫ হাজার টাকা খরচ করার সামর্থ্য নেই। আমার খোঁজ কেউ নেয় না। কাকে বলব দুঃখের কথা?”
এ বিষয়ে কালাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. জুবায়ের আলী বলেন, “বিদ্যুতের অধিকার সবারই রয়েছে। তবে লিলিমন কখনো আবেদন করেননি। আবেদন করলে অবশ্যই ব্যবস্থা করা হবে।”
এদিকে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিমা আক্তার জাহান জানান, “লিলিমনের বিষয়ে অবগত হয়েছি। বিদ্যুৎ না থাকা দুঃখজনক। খুব দ্রুতই বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.