অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের ধলেশ্বরী নদীতে চলছে ড্রেজিং কাজ। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এ খনন কার্যক্রম শুরু করে। এ উদ্যোগে উপকৃত হবেন উপজেলার প্রায় দুই লক্ষ মানুষ। দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণ হওয়ায় হাওরবাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আনন্দ।
একসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মালামাল ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ ছিল এ নদী। কিন্তু উজান থেকে আসা পলি ও ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে নদীর নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। ফলে শুষ্ক মৌসুমে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং কৃষি জমিতে সেচ, বিশুদ্ধ পানির সংকটসহ দেশীয় মাছ বিলুপ্তির আশঙ্কা দেখা দেয়।
ড্রেজিং কাজের ফলে শুধু নৌচলাচলই নয়, কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ড্রেজিং থেকে পাওয়া মাটি নীতিমালা অনুযায়ী স্থানীয় মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, স্কুল, খেলার মাঠ ও বসতবাড়ির নিচু জায়গায় বিনামূল্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন যেমন হচ্ছে, তেমনি বন্যার সময় আশ্রয়ের জায়গাও তৈরি হচ্ছে।
বাহাদুরপুরের কৃষক নেতা শফিউল্লাহ ভূইঁয়া বলেন, “নদী খননের ফলে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং ড্রেজিং-এর মাটি দিয়ে রাস্তা ও মাঠ ভরাট হওয়ায় আমরা আনন্দিত। সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
বাঙালপাড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার খসরু মিয়া জানান, “ড্রেজিং শেষ হলে নদী আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। কিন্তু একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সরকারি কাজে অসহযোগিতা করছে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার বলেন, ধলেশ্বরী ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষি জমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। খনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৫০০ একর জমি চাষের আওতায় আসবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান জানান, সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ চলছে এবং আগামী জুনের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাবের মজুমদার বলেন, “ধলেশ্বরী নদীর নাব্যতা ফেরাতে নিয়ম মেনে খনন চলছে। এ কাজ শেষ হলে নৌযান চলাচল, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.