অশোক মুখার্জি, কলাপাড়া প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সাংবাদিক ও যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম মিরনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় অজ্ঞাত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটার পাঞ্জুপাড়া এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এই অভিযোগ তুলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী ইলিয়াস হোসেন মিলুর আত্মীয় আব্দুল কাইউম আরজু। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে ডিবি পুলিশ ইলিয়াস হোসেন মিলুকে আটক করে। পরে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে সাংবাদিক মিরন হত্যা চেষ্টা মামলায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়।
এর আগে মিলুর ১৩ বছর বয়সী ছেলে রাজনকেও কুয়াকাটার একটি হোটেল থেকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও রাজনকে নির্যাতন করে কয়েকজনের নাম বলতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ইলিয়াসকে টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিএনপি সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার মামলার আসামীও ছিলেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে নয়টি মামলা চলমান, যার একটিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোশাররফ হোসেনও আসামী।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং তিনি নিজেও মামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। কাউকে মারধর কিংবা জোর করে স্বীকারোক্তি নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
তবে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিশু রাজনের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় আদালত ইতোমধ্যে এসআই জহিরুল ইসলামকে শোকজ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মন্নান, হাজী শাহজাহান, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর সিকদার, নেতা আশরাফ সিকদারসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও ভুক্তভোগী পরিবার।
সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, “আমি কাউকে আসামী করিনি। মামলায় যারা জড়িত, তাদের নাম তদন্তের মাধ্যমে ডিবি পুলিশ সংগ্রহ করেছে এবং তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তিও পেয়েছে।”
পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ (পিপিএম) বলেন, “মামলার প্রতিটি পদক্ষেপ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
উল্লেখ্য, গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে বাসায় ফেরার পথে তুলাতলী এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম মিরন। পরে ১৩ ফেব্রুয়ারি তার বাবা মহিপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.