রিপন হোসেন সাজু, মনিরামপুর (যশোর)
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ভবদহ অঞ্চলে মাছ চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে প্রাকৃতিক শ্যাওলা। স্থানীয় ঘের ব্যবসায়ীরা পতিত বিল ও জলাশয় থেকে ‘পাটা শ্যাওলা’, ‘চুনে শ্যাওলা’ ও ‘চিকুন শ্যাওলা’ সংগ্রহ করে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে মাছ দ্রুত বেড়ে উঠছে, সতেজ থাকছে এবং রোগবালাই থেকেও রক্ষা পাচ্ছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক খাদ্যের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মনিরামপুরে বর্তমানে ১১ হাজার ৬৪৩টি মাছ চাষের পুকুর রয়েছে। ঘের মালিকদের দাবি, প্রাকৃতিক শ্যাওলার ব্যবহার মাছ চাষকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করছে। পরিবেশের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না বরং দেশি প্রজাতির মাছের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
সরেজমিনে হাজিরহাট নেবুগাতী বিল এলাকায় দেখা যায়, সকাল থেকে ঘের মালিক ও শ্রমিকরা শ্যাওলা সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় ঘের ব্যবসায়ী প্রশান্ত বলেন, “ঘেরের মাছ মোটাতাজা রাখা ও রোগবালাই থেকে রক্ষা করতে শ্যাওলা খুবই উপকারী।”
হরিদাসকাঠি ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ জানান, শ্যাওলা ব্যবহারের কারণে শুধু মাছের উৎপাদন বাড়ছে না, অসহায় শ্রমিকরাও প্রতিদিন কাজ পাচ্ছেন। মুক্তেশ্বরী নদী ও নেবুগাতী বিল থেকে প্রতিদিন শ্যাওলা সংগ্রহ করে আলমসাধু গাড়ি প্রতি ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি করছেন স্থানীয় শ্রমিকরা।
ঘের ব্যবসায়ী সমির বলেন, “শ্যাওলা মাছকে রোগমুক্ত রাখে এবং স্বাদ আরও সুস্বাদু করে তোলে। একই সঙ্গে শ্রমজীবীরাও প্রতিদিন শ্যাওলা সংগ্রহ করে আয় করছেন।”
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ সেলিম রেজা জানান, শ্যাওলা ব্যবহারে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই তবে অতিরিক্ত শ্যাওলা ব্যবহার করলে পানি দূষিত হয়ে মাছ মারা যেতে পারে। তাই সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। তার ভাষায়, “শ্যাওলা পরিবেশবান্ধব। এটি শুধু মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতেই নয়, স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগার বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.