যশোর প্রতিনিধি
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন জাবির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের নিয়ে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা। তাদের অভিযোগ, ওই প্রতিবেদনে নিহতদের পরিচয় ও অবস্থান বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নিহতদের পরিবার এবং স্থানীয়রা অংশ নেন। এ সময় তারা প্রথম আলোর প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে পত্রিকার কপি আগুনে পোড়ান। পরে জেলা প্রশাসক উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্বজনদের দাবি, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ৫ আগস্টের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৪ জনের মধ্যে ১৬ পরিবারের সদস্যরা শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি চান না। কিন্তু বাস্তবে কোনো সাংবাদিক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। অথচ তাদের নামে মিথ্যা মন্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই প্রতিবেদন শহীদদের স্মৃতি কলঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র। গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিতর্কিত করে আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা প্রথম আলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
আবরার মাশরুন নীলের মা জেসমিন আক্তার আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার নয় বছরের নিষ্পাপ সন্তান মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে আগুনে পুড়ে মারা গেছে। তাকে দুর্বৃত্ত বানানো হচ্ছে কেন? আমার ছেলেকে রাজনীতির খেলায় টেনে আনবেন না।”
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের সাবেক আহ্বায়ক রাশেদ খান, শহীদ ইউসুফ আলীর মা শাহীনা খাতুন, শহীদ সোহানুর রহমান সোহানের বাবা আনোয়ার হোসেন লাল্টুসহ নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট জাবির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ২৪ জন নিহত হন। তাদের অনেককে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করা হলেও প্রথম আলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয় নিহতদের পরিবার এ স্বীকৃতি চান না। এর পর থেকেই এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.