রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো তৎপর। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বড় দল বিএনপিও বেশিরভাগ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে কাজ শুরু করেছে। তবে খুলনা অঞ্চলের ছয়টি আসনে এখনও প্রার্থী নির্ধারণে তারা অনিশ্চিত। এর ফলে প্রার্থীরাও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এবং দলের ভেতর প্রার্থী হওয়ার লড়াই তীব্র হয়ে উঠেছে।
খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন আমীর এজাজ খান, যিনি ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে একই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় এই এলাকায় বিএনপি নেতারা কম সাহস দেখাতেও দেখা যায়। ২০২২ সালের অভ্যুত্থানের পর তিনি এলাকায় আরও সক্রিয় হয়েছেন। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে যাওয়ায় কিছুটা চাপের মুখে পড়েছেন তিনি। এই আসনে প্রার্থী হতে চাইছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান পাপুলও, যিনি জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং জেলা বিএনপি’র নেতারা তার পক্ষে কাজ করছেন।
খুলনা-২ আসনে বিএনপির পরিস্থিতি জটিল। বর্তমান মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং সাবেক এমপি ও মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু দলের দুটি ভিন্ন অংশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়াও দলের একাংশ জিয়া পরিবারের কাউকে প্রার্থী করার দাবি তুলেছে। এই ভিন্নমতের কারণে খুলনা-২ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
খুলনা-৩ আসনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতারা তার পক্ষে থাকায় তার প্রচারণা জোরালো। তবে সাবেক মহানগর বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলামও প্রার্থী হওয়ার জন্য তৎপর, যার ফলে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত।
খুলনা-৪ আসনে কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মল্লিক এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি'র সাবেক তথ্য বিষয়ক সম্পাদক শরীফ শাহ কামাল তাজ এই আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
খুলনা-৫ আসনে সাবেক এমপি ও বিসিবি’র সাবেক পরিচালক আলী আসগর লবি প্রার্থী হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা তার পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শফি মোহাম্মদ খানও নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়।
খুলনা-৬ আসনে প্রার্থী হতে তৎপর আমিরুল ইসলাম কাগজী ও বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন। যদিও জেলা নেতারা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখালেও তাদের তৎপরতা কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খুলনা অঞ্চলে বিএনপির প্রার্থী নির্ধারণে অনিশ্চয়তা দলীয় ঐক্য ও ভোটের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এখনও সময় থাকায় খুলনা-৬টি আসনে প্রার্থী নির্ধারণে দলীয় নেতৃত্বের জন্য চাপ বাড়ছে, যা নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.