টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মাসিক বিল হঠাৎ ১০০ টাকা বৃদ্ধি করায় ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। গ্রাহকদের কোন সতর্কবাতা, মাইকিং বা নোটিশ ছাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নিজেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তারের নাম ব্যবহার করে গ্রাহক পর্যায়ে জানানো হয়েছে ইউএনও পানির বিল বাড়িয়েছে।
এমন অভিযোগ উঠেছে পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। ইউএনও বলেছেন, কেউ তার নাম ব্যবহার করে থাকলে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এতদিন গ্রাহকেরা আধা ইঞ্চি পাইপের লাইনে ২৫০ টাকা ও এক ইঞ্চি পাইপের লাইনে ৩০০ টাকা করে মাসিক পানি বিল দিতেন। কিন্তু চলতি মাসে হঠাৎ করে ২৫০ টাকার বিল ৩৫০ টাকা এবং ৩০০ টাকার বিল ৪০০ টাকা হয়ে গেছে। গ্রাহকরা বিল হাতে পাওয়ার পর বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন। পরে পানি বিল ফেরত দিলেও ইউনিয়ন পরিষদের লোকজন গোপনে গ্রাহকদের বাড়িতে বিল পৌঁছে দেয়।
টুঙ্গিপাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকাবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে ২০১৮ সালে পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পাশে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে “সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট” নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এই প্ল্যান্টের আওতায় ১৩০০ গ্রাহক রয়েছে। এটি পরিচালনার জন্য পাটগাতী গ্রামীণ পানি সমিতি গঠন করা হয়, যাতে ইউপি চেয়ারম্যানকে সভাপতি করা হয় এবং ৭ সদস্যের একটি কমিটি থাকে। উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে।
স্থানীয়রা জানান, প্রথমে প্রতিদিন পানি দেওয়া হতো, এখন সপ্তাহে দুই দিন পানি দেওয়া হয়। প্রথমে পরিষ্কার পানি পাওয়া গেলেও বর্তমানে ঘোলা ও ময়লাযুক্ত পানি আসে। তবু প্রতিমাসে ২৫০ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়। কিন্তু হঠাৎ ৩৫০ টাকার বিল আসায় গ্রাহকরা সেটি রাখেননি। পরে চেয়ারম্যান জানিয়ে দেন, ইউএনও ম্যাডামের নির্দেশে পানি বিল বাড়ানো হয়েছে।
পাটগাতী ইউপি চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস দাবি করেছেন, কমিটির সবাই মিলে মিটিং করে বিল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ইউএনও বিষয়টি জানেন। তিনি বলেন, “প্রায় ১০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল বাকি রয়েছে, তাই পানি বিল বাড়ানো হয়েছে। গ্রাহকদের কাছে ইউএনওর নাম ব্যবহার করা হয়নি।”
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার জানান, “চেয়ারম্যান মিটিং ডাকলে গ্রাহকদের জানানোর জন্য মাইকিং করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। পরে তারা কী করেছে তা আমার জানা নেই।”
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার বলেন, “চেয়ারম্যান আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন। আমার এখতিয়ার নেই, তবে কেউ আমার নাম ব্যবহার করে থাকলে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.