হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল
যশোর জেলার শার্শা ও বেনাপোল উপজেলায় অনলাইন জুয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কলেজছাত্র থেকে শুরু করে মধ্যবয়স্ক ব্যবসায়ী, ফুটপাতের চা-দোকানি, রিকশাচালক, দিনমজুরসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অনলাইনে বাজি ধরে নিঃস্ব হচ্ছেন। শহর-গ্রাম নির্বিশেষে হাজারো যুবক এক ক্লিকে লাখ লাখ টাকা হারাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইনে হারানো টাকা জোগাড় করতে না পেরে অনেক তরুণ চুরি-ছিনতাই, কিশোর গ্যাং তৈরি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। নাভারন, শার্শা, বেনাপোল ও বাগআঁচড়া এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, কিশোররা চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে লুটপাট করছে, ফলে এলাকাবাসী আতঙ্কে রয়েছে।
বেনাপোলের আরাফাত রহমান বলেন, “মোবাইলে জুয়া খেলায় কিশোর-তরুণরা নিঃস্ব হচ্ছে। সেই টাকার যোগান দিতে গিয়ে তারা অপরাধের পথে নামছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করছি।” অন্য এক যুবক আব্দুল্লাহ জানান, “নেশায় লক্ষ লক্ষ টাকা হারিয়েছি। ধার করে খেলেছি, এখন দেনার দায়ে এলাকা ছাড়তে হয়েছে।”
শার্শা উপজেলা কর্মকর্তা কাজী নাজিব হাসান জানান, “অনলাইন জুয়া আমাদের সমাজের জন্য বড় হুমকি। এর সঙ্গে চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং সক্রিয়তা জড়িত। প্রশাসন ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে সভা-সেমিনার, বিদ্যালয়-মাদ্রাসায় কার্যক্রম ও গণমাধ্যম প্রচারণা চালানো হচ্ছে। লক্ষ্য শুধু অপরাধ দমন নয়, মানুষকে বোঝানো যে অনলাইন জুয়া তাদের পরিবার, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।”
স্থানীয়রা দাবী করছেন, সরকারের পাশাপাশি সমাজের সচেতন ভূমিকা ও পুনর্বাসনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আগামী প্রজন্মও অনলাইন জুয়ার নেশায় হারিয়ে যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.