যশোর প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যশোর জেলার ২৫৯টি ভোটকেন্দ্র জরাজীর্ণ ও অবকাঠামোগত নানা সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে ২৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১১টি স্কুল-মাদরাসা রয়েছে। এসব ভোটকেন্দ্র সংস্কারের জন্য তালিকা তৈরি করে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দের আবেদন পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, জরাজীর্ণ কেন্দ্রগুলোর দরজা-জানালা, বৈদ্যুতিক লাইন, পানির সংযোগ, টয়লেট, সীমানা প্রাচীর, টিনশেড ছাউনি ও বিদ্যালয় সড়ক সংস্কার প্রয়োজন। এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, যশোরের আটটি উপজেলায় ২৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবকাঠামোগত সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে অভয়নগরে ৩৯টি, কেশবপুরে ১৩টি, চৌগাছায় ২৮টি, ঝিকরগাছায় ৪৪টি, বাঘারপাড়ায় ৫টি, মণিরামপুরে ৪৯টি, শার্শায় ২৬টি ও সদরে ৪৪টি বিদ্যালয় রয়েছে।
এছাড়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাবে ১১টি বেসরকারি স্কুল ও মাদরাসা ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও সেগুলোও নানা সংকটে ভুগছে।
সরেজমিনে যশোর শহরের রামকৃষ্ণ আশ্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, ভবনের ছাদে লোনা ধরেছে, জানালাগুলো মরিচায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং পলেস্তার খসে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপ্তা শিকারী বলেন, “১৯৮৯ সালে নির্মিত ভবনটি এখন মারাত্মকভাবে জরাজীর্ণ। বারবার জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, “ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সংকট চিহ্নিত করে তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার করা হবে।”
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাদিউজ্জামান খান জানান, “১১টি স্কুল-মাদরাসার সংস্কারের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় নেবে।”
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব বলেন, “৮২৭টি ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে যেসব কেন্দ্রে সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছোটখাটো সমস্যা স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হবে।”
তথ্য অনুযায়ী, এসব ২৫৯ কেন্দ্রের সংস্কারের জন্য ৫০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ কবে হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.