আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
আশাশুনি উপজেলার চেউটিয়া নদীর উভয় তীরে দীর্ঘদিন ধরে neglected (অবহেলিত) সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। তবে শুরু থেকেই কাজের মান ও প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঠিকাদারের ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান কাজের সময় নাগরিকদের উপেক্ষা করে তার পদ্ধতি চালাচ্ছেন।
চেউটিয়া নদীর উত্তরপাড়ে কাপসন্ডা বাজার থেকে নয়ারাবাদ পর্যন্ত এবং দক্ষিণপাড়ে চেউটিয়া বাজার থেকে খালিয়া পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে। ২০২২ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আবেদ মনছুর কনস্ট্রাকশন’ তেমন অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ২-৩ নম্বর ইট ও খোয়া ব্যবহার, লোনা বালি দিয়ে ঢালাই, এমনকি পানির মধ্যেই গাঁথনির কাজ করা হচ্ছে। রিজেক্ট করা নিম্নমানের ইট ও অন্যান্য মালামাল ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে এক পাশে রেখে রাতের আঁধারে অন্যপারে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
সেখানকার কিছু স্থানীয় অধিবাসী জানিয়েছেন, ঠিকাদারের ইঞ্জিনিয়ার মিজান স্থানীয়দের কথা না মেনে, রাজকীয় ভঙ্গিতে কাজ করছেন এবং তার উপর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হুংকারে এলাকাবাসী অবরুদ্ধ হচ্ছে।
কাজের তদারকি করার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছানো উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম রিজেক্ট ইট সরিয়ে নতুন উন্নত মানের ইট ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সিডিউল মেনে কাজ না করলে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ থাকবে।
উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব বলেন, “ঠিকাদার ৫ আগস্টের পর থেকে যোগাযোগ থেকে লাপাত্তা। ইঞ্জিনিয়ার মিজান তার পক্ষে কাজ করছেন, কিন্তু বারবার অনিয়ম করছেন। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি, কিন্তু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।”
নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম বলেন, “রিজেক্ট মালামাল রাতে রেখে ভোরে ব্যবহার করার অভিযোগ এসেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর তদারকি এবং মানসম্পন্ন নির্মাণ কার্যক্রম চালানোর জোর দাবি জানিয়েছেন।

