মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
বাংলাদেশের ঋতুচক্রে প্রকৃতি নানা রূপে সেজে ওঠে। শীতকালে পাতাঝরা গাছের মাঝে হঠাৎ চোখে পড়ে সোনালি আভায় ঝলমলে এক অপরূপ দৃশ্য—স্বর্ণলতা। এই পরজীবী উদ্ভিদ, যাকে গ্রামে আলোকলতা বা সোনালতা নামেও ডাকা হয়, একসময় গ্রামীণ পথে-প্রান্তরে সাধারণ দৃশ্য ছিল। কিন্তু পরিবেশ পরিবর্তন ও বনজ উদ্ভিদের সংকটে আজ তা দুর্লভ হয়ে উঠেছে।
যশোরের মনিরামপুর-ঝিকরগাছা আঞ্চলিক সড়কের দেবিদাসপুর এলাকায় এখন দেখা মিলছে স্বর্ণলতার মনোমুগ্ধকর রূপ। রাস্তার পাশের ঝোপঝাড় ও গাছের ডালে জড়িয়ে যেন বিছানো হয়েছে হলুদ গালিচা। দূর থেকে মনে হয়, ঝুরি ঝুরি সোনালি সুতা ঝুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, “আগে গ্রামে গ্রামে স্বর্ণলতা দেখা যেত। এখন খুব কম। দেবিদাসপুরে হঠাৎ দেখে ভালো লাগল। মনে হচ্ছে প্রকৃতি আবার নিজের রূপ ফিরিয়ে আনতে চায়।”
যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল মোমিন জানান, স্বর্ণলতা (বৈজ্ঞানিক নাম: Cuscuta reflexa) একটি পাতাবিহীন পরজীবী উদ্ভিদ। এর দেহই লতা, যা আশ্রয়ী গাছ থেকে চোষক অঙ্গের মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ করে। সোনালি রঙের চিকন লতার জন্যই এর নাম স্বর্ণলতা। এটি প্রকৃতির এক ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বীথি বলেন, “প্রাকৃতিকভাবে বংশবিস্তার ঘটলেও পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে এটি বিলুপ্তির পথে।”
মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্বাস উদ্দিন যোগ করেন, “একসময় গ্রামীণ পথের অলংকার ছিল স্বর্ণলতা। সংরক্ষণে সচেতনতা ও গবেষণা না হলে এই মুগ্ধতা শুধু স্মৃতিতে থেকে যাবে।
প্রকৃতিপ্রেমীরা আশা করছেন, এমন দৃশ্য আরও ছড়িয়ে পড়ুক, যাতে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পায় এই নীরব সৌন্দর্য।

