পটুয়াখালী প্রতিনিধি
সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বিএনপির ভেতরের বিরোধী গ্রুপকে ‘পথভ্রষ্ট’ আখ্যা দিয়ে তাদের দলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালী বাসীর ব্যানারে শহীদ আলাউদ্দিন শিশু পার্কে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন।
তিনি বলেন,“পথভ্রষ্ট বিএনপির ভাইদের অনুরোধ করবো চলে আসুন, বিএনপির জন্য কাজ করুন, ধানের শীষের জন্য কাজ করুন, নির্বাচনে বিজয়ের জন্য কাজ করুন এবং বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাতে ভূমিকা রাখুন।”
তিনি জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মিয়াসহ উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “যারা এখনো আপনাদের সঙ্গে নেই, আপনারা সবাই তাদের চেনেন। তাদেরকে রাগারাগি করে নয়
ভদ্রভাবে কথা বলে, মাথায় হাত বুলিয়ে, আপন করে দলে ফিরিয়ে আনতে হবে। মেজাজ খারাপ করা যাবে না।”
আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, অনেকের মধ্যেই এতদিনের অবস্থানের কারণে লজ্জাবোধ কাজ করছে। সেই লজ্জা ভেঙে তাদের দলে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।
বিএনপির জন্য, ম্যাডামের জন্য, তারেক রহমানের জন্য সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, “আপনারা কি পারবেন? ওদেরকে আমাদেরই নিয়ে আসতে হবে।”
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএনপি করা প্রত্যেক নেতাকর্মী দলের কাতারে ফিরে আসবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “ম্যাডাম খালেদা জিয়া নিজেই একটি ইতিহাস। ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের বাসভবনে দীর্ঘ ২৫ বছর বসবাসকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থেকে রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত উত্তরণের সাক্ষী ছিলেন তিনি।”
তিনি বলেন, ওই বাসভবনের সঙ্গে খালেদা জিয়ার অসংখ্য স্মৃতি ও ত্যাগ জড়িয়ে আছে। সেখানে অবস্থানকালে তিনি স্বামী, মা, ভাই-বোনসহ একের পর এক আপনজন হারিয়েছেন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার তাকে জোরপূর্বক ওই বাড়ি থেকে উৎখাত করে এবং মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর কারাবন্দি রাখে।
আলতাফ হোসেন চৌধুরীর অভিযোগ, কারাগারে নেওয়ার সময় খালেদা জিয়ার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো সুস্থ থাকলেও মুক্তির সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে বলেই এত দ্রুত শারীরিক অবনতি ঘটে।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের ওপরও অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং কোকো বিদেশে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। এসব ঘটনা শুনে দেশি-বিদেশি অনেকেই আবেগাপ্লুত হন। এ কারণেই খালেদা জিয়া ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ ও ‘আপোষহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত।
এদিকে আলতাব হোসেন চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, “আমরা কারো আহ্বানের অপেক্ষায় নেই। আমরা বিএনপির জন্য কাজ করছি। খুব শিগগিরই দলের সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামব এবং দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করেই ঘরে ফিরব। বিএনপির পক্ষে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”
খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত এই দোয়া অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.