Nabadhara
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জেলার সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. প্রধান সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকার

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
জানুয়ারি ১, ২০২৬ ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি

সুন্দরবনের নদী-খালে কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে দুই মাসের জন্য কাঁকড়া শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসকে কাঁকড়ার প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করে প্রতিবছরের মতো এবারও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্যমতে, সুন্দরবনে শিলাসহ মোট ১৪ প্রজাতির কাঁকড়ার প্রজনন হয়। এই সময়ে কাঁকড়ারা নদী-খালে ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা জন্ম নেয়। প্রজননকালীন সময়ে কাঁকড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে।

ফলে এ সময় শিকার অব্যাহত থাকলে কাঁকড়ার বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সুন্দরবনের জলজ বাস্তুতন্ত্রের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁকড়ার প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে কাঁকড়া ধরা হলে শুধু প্রজাতিটির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে না, বরং পুরো সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খলে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এ সময় কাঁকড়া ধরার অনুমতিপত্র ইস্যু বন্ধ থাকায় গভীর বনাঞ্চলে অবস্থান করা জেলেরা লোকালয়ে ফিরে এসেছেন।

তবে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, প্রজনন মৌসুমেও একটি সংঘবদ্ধ চক্র নানা কৌশলে সুন্দরবনে প্রবেশ করে কাঁকড়া শিকার করছে।

বন বিভাগের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের যোগসাজশে এসব চক্র নির্বিঘ্নে কাঁকড়া ধরছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে সাধারণ জেলেরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।

পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই অনিয়ন্ত্রিত শিকার বন্ধ করা না গেলে কাঁকড়ার বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে পুরো সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর।

পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘জলবায়ু সচেতনতা’ এবং ‘সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন’-এর প্রধান সমন্বয়ক সাংবাদিক শুভ্র শচীন বলেন, প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে এর অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

এর প্রভাব পড়বে শুধু জীববৈচিত্র্যের ওপর নয়, বরং অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় এই প্রাকৃতিক সম্পদের রপ্তানিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনে বন কর্মকর্তা ও রক্ষীদের ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবনের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার, যা মোট আয়তনের প্রায় ৩১ শতাংশ।

এই জলভাগে রয়েছে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি এবং ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস প্রজনন মৌসুম হওয়ায় ৫৯ দিনের জন্য জেলেদের কাঁকড়া ধরার অনুমতি বন্ধ রাখা হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা জানান, খুলনার সুন্দরবনঘেরা উপজেলা কয়রা ও দাকোপের বেশিরভাগ মানুষের জীবিকা সরাসরি সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। এসব এলাকার মানুষ মাছ ও কাঁকড়া ধরা, গোলপাতা সংগ্রহ এবং মধু আহরণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন।

কয়েকজন বনজীবী জেলে জানান, কাঁকড়ার ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় প্রজনন মৌসুমেও একশ্রেণীর জেলে অধিক লাভের আশায় ডিমওয়ালা কাঁকড়া শিকার করে থাকেন। এসব কাঁকড়া সুন্দরবনের ভেতর থেকে নৌকায় করে এনে কয়রা উপজেলার ঘড়িলাল, গোলখালি, আংটিহারা, কাটাকাট ও দেউলিয়া এবং দাকোপ উপজেলার নলিয়ান, কালিনগর, কৈলাশগঞ্জ, রামনগর, বাজুয়া ও চালনা বাজারের বিভিন্ন ডিপোতে বিক্রি করা হয়।

কয়রার এক কাঁকড়া ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিষেধাজ্ঞা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। ঘাটে ঘাটে কিছু টাকা দিলেই সব পক্ষ সামলানো যায়। এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবন বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁকড়া ডিম পাড়ে।

এ সময় তারা ক্ষুধার্ত থাকায় সহজেই ধরা পড়ে। এই সময়ে শিকার বন্ধ রাখা গেলে পরের বছর কাঁকড়ার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আমরা টহল জোরদার করেছি। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে বন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কাঁকড়া শুধু অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষায়ও এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় জনগণ, জেলে ও ব্যবসায়ীদের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, সুন্দরবনের সম্পদ আহরণের জন্য প্রায় ১২ হাজার নৌকাকে অনুমতিপত্র দেওয়া হয়, যার এক-তৃতীয়াংশ কাঁকড়া ধরার জন্য বরাদ্দ। প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া ধরার অনুমতি বন্ধ থাকলেও মাছ ধরার অনুমতি বহাল থাকে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।