Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ২ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জেলার সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. প্রধান সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাষ্ট্রীয় শোক ও ছুটি উপেক্ষার অভিযোগে খুলনা ওয়াসায় কর্মবিরতি ও ৭ দিনের আল্টিমেটাম

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
জানুয়ারি ২, ২০২৬ ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস ও সাধারণ ছুটির আদেশ অমান্যের অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন খুলনা ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়ন ও শ্রমিকরা।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল থেকে খুলনা ওয়াসা ভবনে সব ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন তারা। এ সময় সাত কার্যদিবসের মধ্যে ঝুমুর বালাকে অপসারণ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

কর্মচারী ইউনিয়নের অভিযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে এবং বুধবার সাধারণ ছুটি নির্ধারণ করে। অথচ ওই আদেশ উপেক্ষা করে খুলনা ওয়াসা ভবন খোলা রাখা হয়। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়।

শ্রমিকদের দাবি, রাষ্ট্রীয় শোক পালন না করে ওইদিন কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ কিংবা জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়নি। বরং গোপনে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রক্রিয়া শুরু করা হয় এবং অফিসে উপস্থিতদের জন্য বিরিয়ানী ভোজের আয়োজন করা হয়। এতে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা ওয়াসায় আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দুই প্রকৌশলীর প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব, বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি, মিটার চুরি ও বিল আদায়ে দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। কর্মকর্তারা একে অপরের নির্দেশ মানছেন না, ফলে নাগরিক সেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি কবির হোসেন। বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক জিএম আ. গফ্ফার, সহ-সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, দুলাল উদ্দিন খান, মুকুল হোসেনসহ অনেকে। সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশে যোগ দেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও।

শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সদস্য সচিব মুকুল হোসেন বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার সময় এখানে ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। দুর্নীতিবাজদের প্রমোশন ও ছাত্রলীগের কিছু ক্যাডারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও অবরুদ্ধ করার ঘটনাও ঘটেছে।”

সহ-সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, “সরকারি আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শোক দিবসে অফিস খোলা রেখে নিজের পছন্দের লোকদের নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ডিএমডি ঝুমুর বালা। আমরা তার অপসারণ চাই।”

বিক্ষোভের কারণে বৃহস্পতিবার অনেক কর্মকর্তা অফিসে যাননি। অভিযুক্ত ডিএমডি ঝুমুর বালাও অনুপস্থিত ছিলেন। সদ্য যোগদানকারী সচিব মাহেরা নাজনীন জানান, তিনি বুধবার ছুটিতে ছিলেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঢাকায় বৈঠকে রয়েছেন, রোববার এলে বিষয়টি জানানো হবে।

খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে ঝুমুর বালা বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, “কিছু পেন্ডিং কাজ থাকায় অফিস চালু রাখা হয়েছিল।” তবে সাধারণ ছুটির দিনে জরুরি সেবা ছাড়া বিপুল জনবল নিয়ে অফিস চালানোর যৌক্তিক ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।

বিক্ষোভ চলাকালে কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে যে দাবিগুলো উত্থাপন করা হয় তার মধ্যে রয়েছে—
৭ কার্যদিবসের মধ্যে ঝুমুর বালার অপসারণ, রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে ভোজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম ওয়াসার মতো মাসভিত্তিক বেতন প্রদান, অস্থায়ী কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগ, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং সম্প্রতি বরখাস্ত সাত শ্রমিককে পুনর্বহাল।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।