জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় রোগীর পেটের ভেতরে অপারেশনের সুতা রেখে সেলাই করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছেন এক প্রসূতি নারী। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।
ভুক্তভোগী রোগীর নাম সুমাইয়া আক্তার (২১)। তিনি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পালোয়ান মিয়ার স্ত্রী। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৩ নভেম্বর রাতে সন্তান প্রসবের জন্য তাকে জামালপুর পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি শাহীন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই মেডিকেল অফিসার ডা. দিল আফরোজ নিশা তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন।
অপারেশনের পর তিন দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় থেকেই তীব্র ব্যথায় ভুগতে থাকেন সুমাইয়া। পরে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরলেও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। একাধিকবার শাহীন জেনারেল হাসপাতালে গেলেও তিনি কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাননি বলে অভিযোগ করেন রোগী ও তার স্বজনরা। উল্টো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “সিজারের সময় হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন নিজেই অপারেশন থিয়েটারে সেলাই করেন। হাসপাতালে থাকাকালীন তিন দিনই ব্যথা ছিল। সেলাই কাটার পরও ব্যথা কমেনি। পরে ক্ষতস্থানে ফোঁড়া হয়ে পুঁজ বের হতে থাকে। বিষয়টি জানালে উল্টো আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়।”
পরবর্তীতে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। পরে আল্ট্রাসনোগ্রাম করলে জানা যায়, সিজারের সময় রোগীর পেটের ভেতরে সুতা রেখেই সেলাই করা হয়েছে, যার ফলে ইনফেকশন সৃষ্টি হয়েছে।
রোগীর স্বামী পালোয়ান মিয়া বলেন, “দুই মাস ধরে আমার স্ত্রী অসহনীয় কষ্টে আছে। ভুল চিকিৎসার কারণে এই অবস্থা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার এবং ক্ষতিপূরণ চাই।”
রোগীর স্বজন কুসুম ইসলাম জানান, আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্ট গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. আবুল হোসেনকে দেখালে তিনি নিশ্চিত করেন যে অপারেশনের সময় পেটে সুতা রেখে সেলাই করায় ইনফেকশন হয়েছে। অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালে গেলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে শাহীন জেনারেল হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। রোগী দুই মাস পর ভিত্তিহীন অভিযোগ নিয়ে এসেছে। তার আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট স্বাভাবিক। তারপরও আমরা তাকে গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলেছি।”
এ বিষয়ে অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা. দিল আফরোজ নিশার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরিদর্শনে গিয়ে দেখি প্রতিষ্ঠানটি মানসম্মত নয়। মুচলেকার মাধ্যমে সীমিত সময়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতালের মালিক অপারেশন থিয়েটারে কাজ করতে পারবেন না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

