জয়পুরহাট প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক সচিব আব্দুল বারীর আয়, সম্পদ ও দায়-দেনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামায় তাঁর নিজের, স্ত্রী ও নির্ভরশীল সন্তানদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, আব্দুল বারীর মোট সম্পদের পরিমাণ ১৭ কোটিরও বেশি টাকা এবং তাঁর বার্ষিক আয় ১৫ লাখ টাকার বেশি।
হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল বারীর জন্ম ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৫। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তাঁর বয়স ৭০ বছর। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ। তাঁর স্ত্রী নাজমা আরা বেগম একজন গৃহিণী। ছাত্রজীবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান হল ছাত্র সংসদের সহ-ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যুক্ত হন।
পরবর্তীতে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়ে তিনি মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ২০০৭ সালের ৩১ মার্চ তিনি ওএসডি হন। পরে একটি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ২০১০ সালের উত্তরা ষড়যন্ত্র মামলা ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাতেও তাঁকে আসামি করা হয়। ২০১৪ সালে তিনি পিআরএলে যান এবং ২০১৫ সালে পূর্ণ অবসরে যান। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা প্রত্যাহার করে আর্থিক সুযোগ-সুবিধাসহ সচিব পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি প্রদান করে।
আয়ের বিবরণে দেখা যায়, কৃষিখাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বিদেশ থেকে ২০ হাজার টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে ৬ হাজার ৬৮৭ টাকা, পেশাগত সম্মানী ৪০ হাজার টাকা এবং পেনশন থেকে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ২১০ টাকা। নির্ভরশীলদের ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত আয়সহ তাঁর মোট বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১৫ লাখ ১৯ হাজার ৮৪৪ টাকা। তবে আয়কর রিটার্নে বার্ষিক আয় উল্লেখ রয়েছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯৭ টাকা এবং রিটার্ন অনুযায়ী মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের হিসাবে নগদ অর্থ হিসেবে আব্দুল বারীর নামে রয়েছে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৭৫০ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর নামে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬০ টাকা। ব্যাংক আমানতে তাঁর নামে প্রায় ১৯ লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে প্রায় ৪৩ হাজার টাকা রয়েছে। সঞ্চয়পত্র ও এফডিআরে তাঁর নামে রয়েছে ৮৮ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং স্ত্রীর নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া তাঁর মালিকানায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেট কার রয়েছে। স্বর্ণ ও গহনার হিসাবে তাঁর নামে ২০ তোলা এবং স্ত্রীর নামে ২০ ভরি স্বর্ণ দেখানো হয়েছে। ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র মিলিয়ে অস্থাবর সম্পদের অধিগ্রহণকালীন মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ২৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৮ টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ৩৩১ দশমিক ৫০ শতাংশ কৃষিজমির তথ্য রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে থাকা অকৃষিজমির অধিগ্রহণমূল্য দেখানো হয়েছে ৫৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। গ্রামে অবস্থিত দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি পাকা বাড়ির মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের অধিগ্রহণকালীন মোট মূল্য ৫৩ লাখ ৫ হাজার টাকা হলেও বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
দায়-দেনার অংশে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ছেলের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা, মেয়ের কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে সন্তান ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছেন।
সব মিলিয়ে হলফনামায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাট-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল বারীর মোট সম্পদের পরিমাণ ১৭ কোটিরও বেশি এবং বার্ষিক আয় ১৫ লাখ টাকার বেশি, যা নির্বাচনী হলফনামায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

