শামসুল হক ভূঁইয়া,গাজীপুর
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে দাখিল হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে নির্বাচনী সমীকরণে।গাজীপুরের পাঁচটি আসনে মোট ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন যাচাই-বাছাই শেষে ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।
যাচাই প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-গাজীপুরের কোনো আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি।
গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর) আসনে দাখিল হওয়া আটটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে বাতিল হয়েছে জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুল ইসলাম ও গণফ্রন্টের মোঃ আতিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র। যথাযথ কাগজপত্র দাখিল না করায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে আছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহ আলম বকশী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর তাসলিমা আক্তার, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইমারাত হোসেন খান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন।
গাজীপুর-২ আসনে সর্বাধিক ১৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এক শতাংশ ভোটারের বৈধ সমর্থন না থাকায় খন্দকার রুহুল আমিন, জিত বড়ুয়া ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনজুরুল করিম রনি এর সহধর্মিণী তাপসী তন্ময় চৌধুরী বাদ পড়েন। ফলকনামায় তথ্যের অসঙ্গতির কারণে গণঅধিকার পরিষদের মাহফুজুর রহমান খান, মোঃ আতিকুল ইসলাম, যথাযথ হলফনামা না থাকায় জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ ইসরাফিল মিয়া, ফলকনামা ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর না থাকায় জনতার দলের মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম এবং ফলকনামা ত্রুটির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। এ আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে টিকে আছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মুহাম্মদ হোসেন আলী, বিএনপি মনোনীত এম মঞ্জুরুল করিম রনি,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হানিফ সরকার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মোঃ জিয়াউল কবির, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর মাসুদ রেজা, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সরকার তাসলিমা আফরোজ, জাতীয় পার্টির মোঃ মাহবুব আলম, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর আব্বাস ইসলাম খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আলী নাছের খান এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মোঃ আব্দুল কাইয়ুম।
গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর) আসনে মোট ১০ জনের মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। কাগজপত্রে ত্রুটি ও শর্ত পূরণে ব্যর্থতার কারণে সংশ্লিষ্ট তিন প্রার্থী বাদ পড়েন। যারা বাদ পড়েছেন তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সাব্বির আলী ও ইজাদুর রহমান মিলন, ইসলামী ঐক্য জোটের হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমেদ।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি মনোনীত এস এম রফিকুল ইসলাম,
জাতীয় পার্টির মোঃ নাজিম উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলমগীর হোসাইন।
গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে দাখিল হওয়া নয়টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে চারটি বাতিল করা হয়। ইনকাম ট্যাক্স বকেয়া ও এক শতাংশ ভোটারের তালিকার ঘাটতির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হাসেম, একই কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শফিউল্লাহ, হলফনামা যথাযথ না থাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ কাজিম উদ্দিন এবং হলফনামা ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর না থাকায় আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর মোঃ জাকির হোসেন বাদ পড়েন।
এ আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সালাহ উদ্দিন আইউবী, বিএনপি মনোনীত শাহ রিয়াজুল হান্নান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মনির হোসেন, জাতীয় পার্টির এনামুল কবির এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মানবেন্দ্র দেব।
গাজীপুর-৫ আসনে আটজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য না থাকায় জাতীয় পার্টির ডাঃ মোঃ শফিউদ্দিন সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং প্রস্তাবক না থাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোঃ রুহুল আমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য করা হয়।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে আছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মোঃ খায়রুল হাসান, বিএনপি মনোনীত এ কে এম ফজলুল হক মিলন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোঃ আল আমিন দেওয়ান, জনতার দলের মোঃ আজম খান, গণফোরামের মোঃ কাজল ভূঁইয়া এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান।
সব মিলিয়ে গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ৫৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় বর্তমানে ৩৪ জন প্রার্থী বৈধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ফলে নির্বাচন আরও
প্রতিযোগিতামূলক ও নিয়মতান্ত্রিক রূপ পেয়েছে, আর জামায়াত ও বিএনপির সব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ থাকায় এই দুই দলের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়েছে।

