যশোর প্রতিনিধি
যশোর কালেক্টরেট মার্কেটে সাধারণ ব্যবসায়ীদের বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনের মালিক জিম্মি করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীরা সরাসরি বিদ্যুৎ বিভাগের কাছ থেকে মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে পারছেন না। সাব-স্টেশনের মালিক বিদ্যুৎ কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করে মার্কেটে বিদ্যুৎ সেবা প্রদান করেন। এটি নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মার্কেটের অনেক ব্যবসায়ীর দাবি, সাব-স্টেশন প্রত্যাহার করে তারা সরাসরি বিদ্যুৎ কোম্পানির কাছ থেকে মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সেবা পেতে এবং ব্যাংকে বিল পরিশোধ করতে চান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোর কালেক্টরেট মার্কেট চালু হওয়ার পর থেকে ব্যবসায়ীরা পিডিপি (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ সেবা নিতেন। প্রতিমাসে ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতেন। কোনো এক অদৃশ্য কারণে এটি ২০০২ সালে বন্ধ হয়ে যায়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক মাহফুজুর রহমান চাপের মুখে আবু বক্কর সিদ্দিক নামে একজন ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন বসানোর অনুমতি দেন। সেই থেকে ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ সেবা নেওয়ার জন্য সাব-স্টেশন মালিকের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছেন। স্বাধীনভাবে ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ সেবা নিতে পারছেন না।
বেশ কয়েক বছর আগে সাব-স্টেশন মালিকের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে ১২ জন ব্যবসায়ীর দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ ছিল। আওয়ামী লীগের আমলে, ২০১৫ সালে সাব-স্টেশনটি অবৈধভাবে দখল করেন যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত শাহারুল ইসলাম ক্ষমতার দাপটে সাব-স্টেশনটি পরিচালনা করেন। ৫ আগস্টের পর আবু বক্কর সিদ্দিক আবারো সাব-স্টেশনটি নিজের জিম্মায় নেন। আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়ি বিক্রমপুর জেলায়।
সাধারণত বাণিজ্যিক ইউনিটের দাম ১১ টাকা ৭১ পয়সা। কিন্তু মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সাব-স্টেশনের মালিক প্রতি ইউনিটের দাম ১৩ টাকা নেন। সাধারণ ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর দেশের সবক্ষেত্রে স্বৈরাচারিতা পতিত হয়েছে। দেশের সর্বস্তরের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছেন, স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারছেন। কিন্তু কালেক্টরেট মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এখনো সাব-স্টেশনের মালিকের কাছে জিম্মি।
কালেক্টরেট মার্কেটের মধ্যে কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেট ও কালেক্টরেট কাটপিস মার্কেটে তিন শতাধিক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে বেশি দামে সাব-স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সেবা নিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, "কালেক্টরেট মার্কেটে কোনো ব্যবসায়ীই স্বাধীনভাবে বিদ্যুৎ সেবা পান না। এছাড়া সরকারের বাণিজ্যিক রেটের চেয়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ নিতে হয়। সরকারের আওয়ার বাণিজ্যিক রেট প্রতি ইউনিট ১১ টাকা ৭১ পয়সা। অথচ সাব-স্টেশনের মালিক তাদের জিম্মি করে ১৩ টাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করছেন। আমরা সাব-স্টেশনের মালিকের জুলুমের হাত থেকে মুক্তি চাই। সাব-স্টেশন প্রত্যাহার করে সরাসরি বিদ্যুৎ কোম্পানির কাছ থেকে মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সেবা চাই।"
এ বিষয়ে যশোর বিদ্যুৎ ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী নাজির উদ্দিন বলেন, "যশোর কালেক্টরেট মার্কেটে দীর্ঘদিন ধরে সাব-স্টেশনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের বিদ্যুৎ সেবা দেওয়া হচ্ছে। সাব-স্টেশনের মালিক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিলের টাকা নেন এবং বিদ্যুৎ কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনে নেন। বিদ্যুৎ কোম্পানি সরাসরি ব্যবসায়ীদের সেবা দেয় না এবং বিলও নেয় না। তারপরও ব্যবসায়ীদের হয়রানি করার সুস্পষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.